রাখার আগে সচেতন হবার প্রয়োজন আছে যে, এটা কোনও ‘তাৎক্ষণিক বিতর্ক সভা’ নয়। সুতরাং কাল যে কথা বলেছি, আজ তার বিপরীত কথা বলে বাজিমাত করব—এমন ধারণা নিয়ে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখা উচিত নয়। আমরা অনেকেই বোধ হয় সেই ল-ইয়ারের গল্পটা শুনেছি, যিনি কোর্টে দাঁড়িয়ে তাঁর মক্কেলের হয়ে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য রাখার পর মক্কেল দৌড়ে ল-ইয়ারের কানে কানে বললেন, “হুজুর ওসব কী বলছেন? ও-সবই তো আমার বিরুদ্ধে হুজুর।” “তাই? তা ঠিক আছে।” বলে ল-ইয়ার আবার শুরু করলেন, “ধর্মাবতার, এতক্ষণ আমি যা বললাম, তা আমার বিপক্ষের উকিলের সম্ভাব্য যুক্তি। ওর বাইরে বিপক্ষের উকিলের আর কী বলার থাকতে পারে? পারে না। কিন্তু এর বিপক্ষে আমার যুক্তিগুলো একটু শুনুন।” বলে ল-ইয়ার তাঁর মক্কেলের পক্ষের যুক্তিগুলো একে একে হাজির করতে লাগলেন।
আমার বক্তব্য হল, আমরা কোনও বিতর্কসভায় বসিনি, বা প্রফেশনাল ল’ইয়ার নই যে আজ এ-পক্ষে কাল ও-পক্ষে যাব। আমরা জ্যোতিষবিরোধিতা কেন করব, এটা না জানা পর্যন্ত আমরা হয়তো বিরোধিতা করতে নাও পারি, কিন্তু সমর্থনও করতে পারি না; অবশ্যই করতে পারি না। অমলেন্দুবাবু, ৯ জুলাইয়ে আপনার যে বক্তব্য ছিল তা মনযোগ সহকারেই শুনেছিলাম। আপনার বক্তব্য শুনে আমার স্পষ্টতই মনে হয়েছিল—আপনি জ্যোতিষীদের উদ্দেশে বলতে চেয়েছিলেন—জ্যোতিষকে যদি বিজ্ঞান বলে প্রমাণ করতে চান, তাহলে এফিমারিস ফলো করুন। আমার মনে হয়েছে কোনও কিছুকে ফলো করেই জ্যোতিষীরা জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞান বলে প্রমাণ করতে পারবে না; যেহেতু ভাগ্য কখনই পূর্ব-নির্ধারিত নয়।
শ্রী অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় দর্শক আসনের প্রথম সারিতেই বসেছিলেন। মনযোগ দিয়ে আমার এই বক্তব্য শুনেছিলেন। সভার সভাপতি শংকর চক্রবর্তী সম্ভবত অমলেন্দুবাবুর উত্তর প্রত্যাশা করে আহ্বান জানিয়েছিলেন—এই প্রসঙ্গে আর কেউ বক্তব্য রাখতে চান কি না? অমলেন্দুবাবু এই প্রসঙ্গে কোনও প্রতিবাদ বা উত্তর দেননি।
কথাগুলো আমার স্মৃতি থেকে লিখছি না। লিখছি সেদিনের ধরে রাখা পুরো অনুষ্ঠানের রেকর্ড বাজিয়েই।
এর কয়েকদিন পরেই অমলেন্দুবাবুর এক দীর্ঘ চিঠি পাই। চিঠিতে শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিধাহীন ভাষায় জানান—ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক। আমি আপনাদেরই লোক। শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন আন্তরিক, এবং ব্যক্তিগত ইগোর গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসার এমন সাহসিক প্রচেষ্টার জন্য অবশ্যই তাঁকে অন্তরের শ্রদ্ধা জানাই।