বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০৪
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

 ‘যুক্তিবাদী’ বনাম ‘জ্যোতিষীর’ যে চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে তার অবসান কবে হবে কে জানে। কারণ, যে সরিষা দিয়ে (?) ভূত ছাড়ানোর চেষ্টা চলছে সেই সরিষার মধ্যেই যদি ভূত ঢুকে থাকে তাহলে ভূত ছাড়ানো যাবে কি? তার একটি প্রমাণ পাঠালাম।

 ৩১ ডিসেম্বর ৮৮ তারিখে রেজিস্টার্ড উইথ এ/ডি (রসিদ নং ৫৭৭৩ ও ৫৭৭৪) ডাকযোগে প্রবীর ঘোষের বাড়ির ঠিকানায় এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইণ্ডিয়া, ১নং স্ট্র্যাণ্ড রোড, প্রধান শাখা, কলকাতা-৭০০ ০০১, প্রবীর ঘোষের কর্মস্থলের ঠিকানায় চিঠির মাধ্যমে প্রবীর ঘোষকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম। এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গেল, আমার চিঠির (৩১/১২/১৯৮৮ তারিখের) যথাযথ জবাব নেই কেন?

 কাশীনাথ কংসবণিক। ১৬/১ নন্দলাল বোস লেন; কলিকাতা-৩


|| 8 ||

 ‘কলির খনাদের প্রতি যুক্তিবাদীদের চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে যুক্তিবাদী প্রবীরবাবু চিঠি পড়লাম। প্রবীরবাবুর সঙ্গে আমিও একমত। সাধারণ মানুষকে প্রবঞ্চনার কত রকম পন্থা আজকাল চলছে। আমিও বিজ্ঞানের ছাত্র। যুক্তি দিয়ে সকল কিছু বিচার বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি। কিন্তু যুক্তিবাদী মনও অনেক সময় ভাববাদে ভারিত হয়। আমার এ চিঠি লেখার উদ্দেশ্য প্রবীরবাবুর উদ্দেশে কোনও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া নয়। যুক্তিবাদী মনে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে ভাববাদের দ্বন্দ্ব তার অবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জন্য এ চিঠির অবতারণা।

 বীরভূম জেলার নানুর থানার পাকুড়হাস গ্রামে এক ঠাকুরের আবির্ভাব হয়েছে যিনি বহু দুরারোগ্য ব্যাধি সারিয়ে দিচ্ছেন। ইতি পূর্বে বিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর ওষুধ হচ্ছে বাড়িতে অধিষ্ঠিতা দেবী দুর্গার মৃত্তিকা, ফুল ও চরণামৃত। অসুখ সারানোর জন্য তিনি কোনও অর্থের দাবি করেন না। ভক্তরা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে মুঠো মুঠো অর্থ দিয়ে যান। বাড়িতে রোগীদের মেলা। যুক্তিবাদী প্রবীরবাবু নিশ্চয়ই উল্লিখিত বিষয়টির যুক্তিনিষ্ঠ ব্যাখ্যা দেবেন। সব থেকে ভাল হয় তিনি যদি সরজমিনে পাকুড়হাস গ্রামে ঘুরে আসেন।

 বীরেন আচার্য। দিগড়া সারদাপল্লী, হুগলি।


 চিঠিগুলো প্রকাশিত হতেই সংবাদ শিকারী অনেক সাংবাদিক বন্ধুই জানতে চাইলেন, এবার আমাদের সমিতি কী করবে? এগিয়ে এলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ‘INDIA TODAY’ পত্রিকা। বিজ্ঞানকর্মী ও সাধারণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল ‘তিন’ নম্বর চিঠিটি। আমি কেন কাশীনাথ কংসবণিক-এর দু-দুটি রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠানো চিঠি পেয়েও উত্তর দিইনি?