(৩) কাশীনাথ কংসবণিকের চিঠি পেয়েছি, পড়েছি; কিন্তু উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিনি। যতদূর মনে পড়ে: তিনি জানিয়েছিলেন—আমরা যেন একটা সাংবাদিক সম্মেলন ডাকি, সেখানে তিনি আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখবেন। এই অদ্ভুত আবদার পড়ে পত্রলেখকের মস্তিষ্কের সুস্থতা বিষয়ে সন্দেহ জেগেছিল। প্রায় প্রতিদিনই এমন চ্যালেঞ্জ জানানো চিঠি পাই। তাঁরা প্রত্যেকেই সাংবাদিক সম্মেলন ডাকার বায়না ধরেন এবং জামানতের টাকা জমা দিতে বললেই সরে পড়েন। শ্রীকংসবণিক ১৫ মে’র মধ্যে টাকা জমা দিলে তাঁর মুখোমুখি হব ১৬ জুনের সাংবাদিক সম্মেলনেই।
(সেই সম্মেলনে শ্রীকংসবণিক যদি প্রমাণ করতে পারেন তাঁর বা তাঁর পরিচিত কারও অলৌকিক ক্ষমতা আছে অথবা জ্যোতিষীশাস্ত্র বিজ্ঞান, তবে জিতে নিবেন পঞ্চাশ হাজার টাকা; ফেরত পাবেন জমা রাখা পাঁচ হাজার।)
(৪) বীরেন আচার্যের চিঠির উত্তরে জানাই: রোগ-নিরাময়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্বাসবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। শরীরের নানা স্থানের ব্যথা, হাড়ে, বুকে বা মাথায় ব্যথা, বুক ধড়ফড়, পেটের গোলমাল, গ্যাসট্রিকের অসুখ, ব্লাডপ্রেসার, কাশি, ব্রঙ্কাইল অ্যাজমা, ক্লান্তি, অবসাদ ইত্যাদি রোগের ক্ষেত্রে রোগীর বিশ্বাসবোধকে কাজে লাগিয়ে ঔষধ-মূল্যহীন ক্যাপসুল, ইঞ্জেকশন বা ট্যাবলেট প্রয়োগ করে অনেক ক্ষেত্রেই ভাল ফল পাওয়া যায়। একে বলে ‘প্লাসিবো’ চিকিৎসা পদ্ধতি।
পাকুড়হাস গ্রামের দেবীদুর্গার মৃত্তিকা ও চরণামৃত খেয়ে যাঁরা রোগমুক্ত হয়েছেন তাঁদের আরোগ্যের পিছনে দেবীদুর্গার কোনও বৈশিষ্ট্য সামান্যতম কাজ করেনি, করেছে দেবীদুর্গার প্রতি রোগীদের অন্ধবিশ্বাস। শ্রীআচার্য একটু অনুসন্ধান করলেই দেখতে পাবেন, রোগমুক্তরা সেইসব রোগেই ভুগছিলেন, ‘প্লাসিবো’ চিকিৎসায় যে সব রোগ আরোগ্য সম্ভব। প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতার জন্য শ্রীআচার্য আমাদের সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে বাধিত হব।
প্রবীর ঘোষ। কলকাতা-৭৪
২৬ মে ১৯৯০ বরানগর পোস্ট অফিস থেকে রেজিস্টার্ড উইথ এ/ডি (রসিদ নম্বর ২৯২৪) একটি চিঠি চারটি চিঠি ছবি সমেত পাঠালাম মণিমালাকে। ঠিকানা লিখেছিলাম ৩৫/১৭ এ, পদ্মপুকুর রোড, কলিকাতা- ২০, পিন ৭০০ ০২০। আপনাদের কৌতূহল মেটাতে চিঠিটি তুলে দিচ্ছি।
মাননীয়া মণিমালা,
আপনার অলৌকিক জ্যোতিষ-ক্ষমতা বিষয়ে আমাদের সমিতিকে পরীক্ষা চালাতে সহযোগিতা করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
চারটি ছবি চিঠির সঙ্গে পাঠালাম। প্রতিটি ছবির পিছনে আমার স্বাক্ষর সহ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত সংখ্যা লেখা রয়েছে।