বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩১৪
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

পুত্র প্রার্থনা করে। ব্রাহ্মণ প্রার্থনা পূর্ণ না করায়, ইল্বল তদবধি ব্রহ্মঘাতক হয়। মায়াকৃত মেষরূপী বাতাপির মাংস ব্রাহ্মণকে খাওয়াইয়া ইল্বল পরক্ষণেই বাতাপির নাম ধরে ডাকতো ও বাতাপি উদর বিদীর্ণ করিয়া নির্গত হতো। এমনি ভাবে অনেক ব্রাহ্মণ নিহত হইলে, মহর্ষি অগস্ত্য মেষরূপী বাতাপিকে উদরস্থ ও হজম করিয়া ব্রহ্মকণ্টক দূর করেন।

 ভাল কথা। আপনাদের সাধ্যে তাহলে কুলোল না, অতএব আপনারা কোনও এক অগস্ত্য মুনির আগমনের অপেক্ষায় দিন গুনুন, যেদিন তিনি এসে চ্যালেঞ্জার বাতাপিকে হজম করে যুক্তিবাদীদের মায়া থেকে আপনাদের উদ্ধার করবেন। আচ্ছা, একটি কথা বলতে পারবেন গুনে-গেঁথে—ওই অগস্ত্য আগমন কবে ঘটবে, এবং ঘটবে আপনাদের উত্তরণ? এখানেও আপনাদের গণনা, আপনাদের ভবিষ্যদ্বাণী চূড়ান্তভাবেই ব্যর্থ হবে। কারণ, আপনাদের অগস্ত্য কোনও দিনই আসবেন না। যদিও বা আসেন, ‘বাতাপি’র সিংয়ের গুঁতোয় ফাঁসবে তাঁরও পেট। আপনারা অনেক ব্যর্থ ভবিষ্যদ্বাণী শুনিয়েছেন। কিন্তু ভাগ্য না শুনেই যে ভবিষ্যদ্বাণী শোনালাম, তা একেবারেই অব্যর্থ। আপনাদের ভবিষ্যৎ বলে সত্যিই কিছু দেখছি না। এক ‘বাতাপি’, ‘ইল্বলকে’ ঠেকানোই আপনাদের কম্মো নয়; এই বই যে হাজার হাজার ‘বাতাপি’, ‘ইল্বল’-এর জন্ম দেবে; তারা যে আপনাদের ঝাড়ে-বংশে শেষ করে দেবে মশাই!

 এদিকে নরেন্দ্রনাথ মাহাতোকে নিয়ে আর এক কেলেংকারি। এক দিনে একই সঙ্গে নরেনবাবুর পাঠানো দু'টি খাম পেলাম। দুটি চিঠিই উনি লিখছেন ৮ মে ১৯৯০ তারিখে। সঙ্গে ‘বিপ্লবী মেদিনীপুর টাইমস’ পত্রিকায় কিছু কপি, সেগুলোতে নরেনবাবুর ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। লাল ও নীল উড পেন্সিলে প্রায় প্রতিটি লাইনে ছাপার ভুল সংশোধন করে পাঠিয়েছেন নরেনবাবু। চিঠি দুটিতে ‘মজার ছত্রিশ ভাজা’ পরিবেশিত হয়েছে। শেষে এক জায়গায় জানিয়েছেন, তিনি নীতিগতভাবে জমানতের পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে রাজি নন। এবং তা সত্ত্বেও যেন ১৬ জুন ১৯৯০-এর প্রেস কনফারেন্সে আমরা তাঁকে আমন্ত্রণ জানাই।

 উত্তরে জানিয়েছিলাম, চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিনা ঝুঁকিতে ফালতু কিছু কামানোর ধান্ধায় অনেকেই আমার সময়ের প্রচণ্ড অভাবের মধ্যে থাবা বসাতে চায়। তাদের সামাল দিতেই এই জামানতের ব্যবস্থা। জামানত রাখি না শুধু বিখ্যাতদের ক্ষেত্রে। তবে নতুন একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। আপনি পরাজিত হলে আপনার মাথার আধখানা কামিয়ে দেব। আর লিখিতভাবে আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, আর কোনও দিনই হস্তরেখাচর্চা, জ্যোতিষচর্চা করবেন না। এতে রাজি হলে ওই দিনের সম্মেলনে আপনার মুখোমুখি হব।

 আবারও নরেন্দ্রনাথ রণে ভঙ্গ দিলেন। সাহস করে আধমাথা চুলের ঝুঁকি পর্যন্ত নিতে রাজি হলেন না।