প্রায় ঠিকঠাক বলে দেওয়া সম্ভব। আর চর্চায় সেটা শিল্পে পৌঁছয়। এমন খেলা আমরা ট্রেন যাত্রায় প্রচুর খেলি। যারা এই খেলা নিয়ে ব্যবসা করে তাদের সঙ্গে খেলতে মজা পাই। থেবড়ে গোবরে বসিয়ে দেওয়ার মজা। এ খেলায় আমাকে জিততে হলে এমন একটা লোককে হাজির করতে হবে, যাকে দেখে আন্দাজ করা সম্ভব নয়।
তেমন লোক যখন পেলাম না, তখন নিজের হাত দেখাবার ঝুঁকি নিতেই হল। এর জন্য প্রথমেই যেটা প্রয়োজন, সেটা হল, আমাকে ‘আমি নই’ করে হাজির করা।
গৌতম ঘোষকে একটি অনুরোধ করলাম, প্রোগ্রামে আপনি আমাকে প্রবীর ঘোষ বলে পরিচয় করাবেন না। গৌতম নিশ্চিত্ত করলেন—ঠিক আছে। সমাজবিজ্ঞানী শ্রীঘোষ বলে পরিচয় করাব।
স্টুডিওর মেকাপ রুমেই পরিচয় হল জ্যোতিষীদের সঙ্গে। আসার কথা ছিল দু-জনের। কিন্তু এসেছেন তিনজন। তৃতীয়জন পেশায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। এখন নেশা জ্যোতিষ চর্চা। (চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর জ্যোতিষী করে ‘টু পাইস’ এলে মন্দ নয়।) পাক্কা ঘণ্টাখানেক আড্ডা মারার পর জ্যোতিষীরা নিশ্চিন্ত হলেন, আমি ‘আমি’ নই। অন্তত আমার তেমনটাই মনে হল। প্রমাণ মিলবে আমার অতীত নিয়ে প্রশ্নের ওঁরা কী উত্তর দেন তার উপর।
এখানে তাত্ত্বিক আলোচনার প্রসঙ্গ টানছি না। আনছি আমার হাত দেখে কী উত্তর ওর দিলেন সেই প্রসঙ্গে। গৌতম ঘোষ আমাকে বললেন, এই অনুষ্ঠান শুরুর আগে আপনার হাত আজকের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী জ্যোতিষীদের দেখিয়েছেন। এ’বার ওঁদের কাছে আপনার প্রশ্নগুলো রাখুন। তবে প্রশ্নগুলো রাখবেন আপনার অতীত জীবন নিয়ে। যাতে আমরা মিলিয়ে দেখার সুযোগ পাই, উত্তরগুলো ঠিক হল, কি ভুল?
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, কত বছর বয়সে আমার বিয়ে হয়েছিল দেখলেন।
উত্তর পেলাম, চৌতিরিশ-পঁয়তিরিশ।
—ছেলে মেয়ে ক’টি?
—দুটি মেয়ে।
—কর্মক্ষেত্র?
—দু-চার বছরের বেশি কোনও জায়গায় লেগে থাকতে পারেননি।
জ্যোতিষীরা তাঁদের দেওয়া উত্তরে সহমত। কিন্তু আমার মতটা কী? ক’টা মিলল? গৌতম অনুরোধ করলেন, সঠিক উত্তরগুলো দর্শকদের জানাতে।
সঠিক উত্তর—বিয়ে করেছি তেইশে। চৌতিরিশ, পঁয়তিরিশে নয়। একটি সন্তান। ছেলে। একটাই চাকরি করতাম। স্টেট ব্যাংকে। চাকরি ছেড়েছি সম্প্রতি।
সেদিন জানাবার কোনও সুযোগ ছিল না, কেন ওদের একটা উত্তরও কাছাকাছি