বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৩২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]
৩১৭

দিয়ে যেতে পারেনি। আজ আপনাদের সেই কাহিনি শোনাচ্ছি।

 নিউ থিয়েটার স্টুডিওর এক টেকনিশিয়ান বন্ধু সেদিন আমার অনুরোধ রেখেছিলেন। তাইতেই জয়। তিনি শুধু আমাদের মেকাপ রুমের আড্ডায় ঢুকে বললেন,—“ঘোষ’দা তোমার গলা শুনে ঢুকে পড়লাম। ছোটমেয়ে তো গ্রাজুয়েট হয়ে গেল। কবে খাওয়াচ্ছ বলো।”

 ওঁর ওই ছোট্ট ডায়লগই জয়কে নিশ্চিত করেছিল। জ্যোতিষীরা ওই এক ডায়লগ থেকে যে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন, সেগুলো হল:—

 (১) আমার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলে জ্যোতিষীরা মনে করেছিলেন, প্রবীর ঘোষের সঙ্গে চেহারার যথেষ্ট মিল থাকলেও আমি সম্ভবত প্রবীর ঘোষ নই। কিন্তু স্টুডিওরই একজন টেকনিশিয়ানের কথা শুনে নিশ্চিত হয়েছিলেন - আমি প্রবীর ঘোষ নই। কারণ জ্যোতিষীরা জানেন, আমার এক ছেলে। ‘অলৌকিক নয় লৌকিক’ প্রথম, দ্বিতীয় খণ্ডে সে কথা লেখা আছে।

 (২) হাত দেখার সময় আমার জন্ম সাল জেনেছিলেন। ছোট মেয়ে গ্র্যাজুয়েট হয়েছে শুনে ওঁরা ধরে নিয়েছিলেন, ছোটর বয়স বছর কুড়ি হবে। বড়র বয়স একুশ-বাইশ হবে। আমার যা বয়েস, তাতে আমার সময়ে প্রথম সন্তানের পর দ্বিতীয় সন্তানের বয়সের পার্থক্য দু-এক বছরের বেশি হত না। আমার বিয়েটা তার মানে বছর বাইশ আগে হয়েছে। এখন বয়েস ছাপ্পান্ন। অর্থাৎ বিয়ে হয়েছে চৌতিরিশ-পঁয়তিরিশে। সোজা হিসেব।

 (৩) আমার স্টুডিওর বন্ধুটি যে’হেতু ‘আপনার মেয়ে’ না বলে ‘ছোট মেয়ে’ শব্দটি বলেছিলেন, তাইতেই ওঁদের হিসেবে গোলমাল হয়েছে। ওঁরা ধরে নিয়েছিলেন, বড়োটি ছেলে হলে ‘ছোট মেয়ে’ না বলে ‘মেয়ে’ শব্দটি বলতেন। এরই সঙ্গে আমার শিক্ষা ও আর্থিক স্ট্যাটাস অনুমান করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন, আমার দু’য়ের বেশি সন্তান হওয়াটা স্বাভাবিক নয়।

 (৪) গিয়েছি ‘প্রেস’ লেখা গাড়িতে। গাড়ি দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি সাংবাদিক। কোথায় যুক্ত আছি, জানতে চেয়েছেন। জানিয়েছি। এর আগে কোথায় কোথায় যুক্ত ছিলাম, তাও জানতে চেয়েছেন। মিডিয়াগুলোর নাম বলেছি। আমি কোনও সংবাদমাধ্যমে কখনও চাকরি করিনি বটে, কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম—এ’ও সত্যি। আমার কথা শুনেই তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন, ঘন ঘন চাকরি বদল করেছি।

 জ্যোতিষীদের ক্ষমতার দৌড় আমি জানি। জানি, ওরা হাত বা ছক দেখে কোনও কিছুই বলে না। বলে যে হাত বা জন্ম ছক দেখাতে এসেছে তার কথার সূত্র ধরে পোশাক-পরিচ্ছদ, চেহারা, রুচি, ঘড়ি, জুতো, গাড়ি কী বাসযাত্রী ইত্যাদি বুঝে নিয়ে অতীত বলে, ভবিষ্যৎ বলে। যে’সব দেখে-শুনে ওরা বলে, সে’সব একটু উলটে-পালটে দিলেই সব ওলট-পালট। আমি শুধু তাই করেছিলাম। এবং জিতেছিলাম।