পড়া থামিয়ে নন্দদুলালবাবু তন্ময়ের দিকে তাকালেন। পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন।
তন্ময় জানালেন, টাইমস অফ ইণ্ডিয়ার সাংবাদিক। আমাদের পরিচিত হিসেবে তাঁর এখানে আসা।
ছোট্ট চিঠি। তাও দু-তিনবার পড়লেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। ইতিমধ্যে রমণীকণ্ঠগুলো আর রমণীয় নেই। চেঁচামেঠি আর খিস্তির বান ডেকেছে।
সম্ভবত তন্ময়ের পরিচয় পাওয়ার পর পুলিশের তোলা আদায়ের চিত্রকে ঢাকতে আমাদের তিনজনকে অফিসার ইনচার্জের চেম্বারে বসালেন। ‘বড়বাবু’ কে খবর দিতে নন্দদুলালবাবু নিজেই উদ্যোগী হলেন।
মিনিট পাঁচ-সাতের মধ্যে ও সি মহঃ আক্রম ঘরে ঢুকলেন। আমার কথা শুনলেন। আবেদনে চোখ বোলালেন। আমাকে বললেন—কমপ্লেনে অনেকেই অনেক কিছু লিখে ফেলেন। লিখে ফেলা সোজা। কিন্তু প্রমাণ করা খুব কঠিন। আপনারা দু-জনে যা যা লিখেছেন, তা তা প্রমাণ করতে পারবেন কি?
বললাম—তা পারব। আমাদের পুরো কথা-বার্তাই ননস্টপ ধরা আছে অডিও ক্যাসেটে। ওঁর প্রতারণা ধরতেই পুত্রবধূকে মেয়ে সাজিয়ে ছিলাম। সাজিয়ে ছিলাম সমস্যার গপ্পোটা।
—ঠিক আছে, ক্যাসেটটা আর কোন্ কোন্ ছবি বলবন্ত মহারাজজিকে দেখিয়েছেন, দিন। তার পর কমপ্লেন আর তার কপিতে আপনারা দু’জনে সিগনেচার করুন,
—হ্যাঁ, সিগনেচার করছি। তবে ক্যাসেট বা ফটো এখুনি দিচ্ছি না। কপি করে আপনাকে দেব। এভিডেন্স হিসেবে কোর্টে যাতে এগুলো প্রডিউজ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা নিশ্চয়ই করব। আশাকরি এই কমপ্লেনের ভিত্তিতে বলবন্তকে অ্যারেস্ট করতে এখন আর কোনও অসুবিধে নেই।
কিন্তু তার পরেও অসুবিধের কথা এল। আক্রম সায়েব জানালেন—তিনি একজন মুসলিম। এতবড় একজন হিন্দু সাধুকে অ্যারেস্ট করলে অনেক রং চড়তে পারে। অনেক গোলমাল হতে পারে।
আমার নাছোড়বান্দা অ্যাটিচুডে আক্রম সায়েব বললেন—ঠিক আছে, আপনাদের কমপ্লেন নিচ্ছি। দেখি কী করা যায়।
তালতলা পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে তন্ময়কে ধন্যবাদ দিয়ে দৌড়লাম সমিতির ক্রীক রো’র অফিসে। আজ ওখানে স্টাডি ক্লাস চলছে। সঙ্গে চলছে আমার জন্যে গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা। অবশ্য ইতিমধ্যে বার তিনেক ফোন করে আমাদের অগ্রগতি জানিয়েছি। এখান থেকেও আমার মোবাইলে খবর এসেছে—তাড়াতাড়ি আসুন, আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি।
আমি নামলাম ক্রীক রোতে। সেখানে পুরো ঘটনার বিবরণ দিলাম। এবং এও