অধ্যায় : কুড়ি
কীভাবে বার-বার মেলানো যায় জ্যোতিষ না পড়েই
এক প্রবীণ সাহিত্যিকের বাড়িতে গিয়েছি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে। সেদিন সেই সাহিত্যিকের বাড়িতে বিজ্ঞাপনের দৌলতে নামী এক মহিলা জ্যোতিষীর আগমন ঘটেছে। তাঁকে ঘিরে বেশ বড় একটা জটলা। ব্যস্ত সাহিত্যিককে কোনও অস্বস্তির মধ্যে না ফেলে দরজার এক কোণে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, জ্যোতিষীর হাত দেখ ও শুনছিলাম, জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণীগুলো। এক উত্তর-চল্লিশ স্থূলাঙ্গী মধ্যবিত্ত ঘরোয়া বধূকে নিয়ে এসেছিলেন এক তরুণ। জ্যোতিষীর কাছে তরুণ নিয়ে গেলেন বধূটিকে। জ্যোতিষী বোধহয় অনেকক্ষণ ধরে অনেকেরই হাত দেখেই যাচ্ছিলেন। ভদ্রমহিলার হাত দেখে দু-একটি কথা বলেই জ্যোতিষী সম্ভবত হাত দেখার একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতেই এড়াতে চাইলেন। বললেন, “আজ অনেক দেখেছি। আর পারছি না, এরপর যেদিন আসব, সেদিন আপনার হাত দিয়েই আরম্ভ করব।” বধূর সঙ্গী তরুণটি বললেন, “আপনি যেদিন আসবেন, সেদিন তো ওঁর পক্ষে আসা সম্ভব হবে না। উনি থাকেন চক্রধরপুর। কালই চলে যাবেন।” কিন্তু এ-কথাতেও জ্যোতিষীর মন গলল না। মহিলাটি যখন আমার পাশ দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন, তখন আমি তাঁকে বললাম, “কিছু মনে না করলে এক মিনিট আপনার হাতটা একটু দেখাবেন?” ভদ্রমহিলা হাতটা বাড়িয়ে দিলেন। বলতে শুরু করলাম, “আপনি যথেষ্ট পরিশ্রমী, সহজ সরল জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। আপনার অনেক বান্ধবী। বিপদ-আপদে বান্ধবীরা আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসেন বার বার। আপনার ভাগ্যে মাঝে মাঝেই যেভাবে একঝাঁক করে বান্ধবীরা বদলে যাচ্ছেন, তাতে মনে হয় আপনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শহরে বেশ কিছু বছর করে বসবাস করেছেন। আপনার স্বামী চাকরি করেন। স্থায়ী চাকরি। একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চক্রাকারে ঘোরার একটা সম্পর্ক আছে?”
ভদ্রমহিলা মুখ খুললেন, “হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন, উনি রেলে কাজ করেন।” বললাম, “আর যে যে কথাগুলো বললাম, সেগুলো মিলেছে?” “হ্যাঁ, সব।” কথার
৩২৯