ও কট্টর হওয়ার চেয়ে আপস করে চলার দিকে ঝোঁক থাকত বেশি। কাজে না গিয়েই দৌড়ে এসেছেন আমার কাছে, কেন? দ্বিধা? দ্বন্দ্ব? কীসের দ্বিধা, দ্বন্দ্ব পরশুর অনুষ্ঠান সৃষ্টি করতে পারে? কোনও জ্যোতিষীর মিলিয়ে দেওয়া ঘটনাকে সত্যি বলে ধরে নেওয়ার পর পরশুর অনুষ্ঠান তাঁর বিশ্বাসকে প্রচণ্ড রকম আঘাত করেছে—এমনটা ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। আর, জ্যোতিষীর ধাপ্পাবাজিতে বিশ্বাস করা মানেই পুরোপুরি ঠকে যাওয়া। আর একটা কথা বলি, সেদিনই ভদ্রলোক জানিয়ে ছিলেন, চাকরি করেন।
এমনি অভিজ্ঞতার কথা কত শোনাব? এর যেন শেষ নেই। প্রতিদিনই প্রায় এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছিই। নতুন নতুন মানুষ, নতুন নতুন সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেন তাঁদের সমস্যার মূলটুকু ধরার জন্য প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমনিভাবেই এগোই।
একজন মানুষকে দেখে তার অতীত ও বর্তমানের হদিশ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতের হদিশ পাওয়াও অনেক সময়ই সঠিক হয় না। এই বিষয়ে একটি উদাহরণ আপনাদের সামনে হাজির করছি। এক তরুণ যুক্তিবাদী-আন্দোলনকর্মীকে মনের মতো করে গড়ে নিচ্ছিলাম পরম মমতায়। একটু একটু করে ছেলেটি হয়ে উঠল বলিয়ে-কইয়ে, চৌখস। এক সময় ছেলেটি W.B.C.S. দিল। পাস করল। অফিসার হয়ে ঢুকল এমন একটি অফিসে, যে অফিসের দেওয়ালগুলোও নাকি ঘুষ খায়। যুক্তিবাদী-আন্দোলনের অমন সোনামানিক গরিব ঘরের ছেলের পকেটে যখন 555 আর ‘ক্ল্যাসিক’ সিগারেটের প্যাকেট শোভা পেতে লাগল, তখনই শঙ্কিত হলাম। বুঝলাম, ঘুষ ওকে যেভাবে খেতে শুরু করেছে, লোভ ওর মনে দানা বেঁধেছে। তাতে ব্যক্তিস্বার্থে ও আন্দোলনকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য। যে লোভি তার সততা থাকে না। যার সততা নেই, সে কোনও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিলে, সেই আন্দোলনকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য। ওর তরফ থেকে ভবিষ্যতে আসা বিপদ সম্পর্কে সচেতন করেছিলাম সহযোদ্ধাদের। কেউ কেউ, যাঁরা ‘পার্টির’ দেওয়া সিগারেটের প্যাকেট গ্রহণ করাটা নিতান্তই সৌজন্যমূলক বলে বিষয়টাকে লঘু করে দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁদের সেই অনুমানকে মিথ্যে প্রমাণ করে একদিন অমন হিরে-মানিক ছেলেটিই নখদত্ত বিস্তার করে ঝাঁপিয়ে পড়ল একটি রাজনৈতিক দলের হাতে সমিতিকে তুলে দিয়ে পুরস্কৃত হতে। সামান্য 555 সিগারেটের প্যাকেট দেখে ভবিষ্যৎ চিত্রটা আমরা কিছু অভিজ্ঞরা অনুমান করতে পেরেছিলাম বলেই ওর চরম বিশ্বাসঘাতকতা সেদিন ব্যর্থ হয়েছিল।
আপনি যখন একজন মানুষের চরিত্র বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন, তখন চরিত্রটি যদি গড়-মধ্যবিত্ত ধরনের হয়, তবে এভাবে শুরু করতে পারেন—“আপনার