ইতিহাসে হয়েছে। তাহলে তৃতীয় লাইনটা মিথ্যা প্রমাণিত হল।
চতুর্থ লাইনের আগুন, আর পোকামাকড়কে যথাক্রমে বোমা আর সাবমেরিন বলাটা ব্যাখ্যাকারের গতানুগতিক বজ্জাতি। এর আগেও ব্যাখ্যাকার সাধারণ শব্দকে অর্থ বদলে বর্তমান যুগের শব্দ বলে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন।
নস্ট্রাডামুস যদি কোথাও লেখেন—“বজ্রপাত ঘটবে’, ধূর্ত ব্যাখ্যাকাররা
হয়তো বোঝাবেন যে এখানে ‘লেসার-গান’এর কথা
ভবিষ্যদ্বাণী করা রয়েছে। এরকম চমকদার
ব্যাখ্যায় প্রতারিত হবেন না। যুক্তি দিয়ে
বিচার করে, যাচাই করে, তবেই
কোনো সিদ্ধান্তে আসুন।
পাঠকরা যুক্তি দিয়ে বিচার করে বলুন তো, এই কবিতাতে সত্যিই ২য় বিশ্বযুদ্ধের যা বলা আছে বলে আপনারা মনে করেন?
কবিতা—৫১ (সেঃ—২)
(এই কবিতাটা নস্ট্রাডামুসের প্রচারকদের এক মস্ত হাতিয়ার। এই কবিতাটা তারা সুযোগ পেলেই উদাহরণ হিসেবে পেশ করে। এই কবিতাটার ব্যাখ্যা প্রবীর ঘোষের কাছে এসেছে। দেখা যাক কেন এই কবিতাটা এত বিখ্যাত.......)
Le sang de juste a londres sera faulte,
Brusles par fouldres de vingt trois six :
La dame antique cherra de place haute,
Des mesme secte plusieurs seront occis.
‘আনন্দমেলা’ ১৪ নভেম্বর '৯১, সংখ্যায় অভীক মজুমদার এই কবিতার অনুবাদ করেছেন:
লণ্ডনে ঘটবে এক প্রবল অশুভ,
পুড়বে আগুনে সব তিনগুণ কুড়ি যোগ হয়ে :
সুপ্রাচীন স্থাপত্য পড়বে বিদীর্ণ হয়ে উঁচু থেকে,
মরবে অনেক লোক, পালাবে অনেকে তার ভয়ে।
ব্যাখ্যাকারদের ব্যাখ্যা: লণ্ডনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
অভীক মজুমদার এই কবিতার ব্যাখ্যা করেছেন (এরিকার বই পড়ে, সম্ভবত) লণ্ডনের ১৬৬৬ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বলে। তিনি বলেছেন—“সত্যিই লণ্ডনে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়েছিল ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে (৬৬ মানে, তিনগুণ কুড়ি যোগ ছয়)। অন্যান্য সুপ্রাচীন গির্জার সঙ্গে ভেঙে পড়েছিল সুবিশাল সেণ্ট পলস্ ক্যাথিড্রাল। মানুষজন কাঠের বাড়ি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়েছিল ঊর্ধ্বশ্বাসে, মারা গিয়েছিল বহু মানুষ।”