বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৪
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

করছেন। কিছু চ্যানেলে এদের ‘লাইভ’ অনুষ্ঠান দেখে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে কোনও কোনও জ্যোতিষী খুনেরও হুমকি দিচ্ছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। উন্মাদনা জাগিয়ে কার্যসিদ্ধির চেষ্টা করছে। এনডিএ সরকার থাকাকালীনও জ্যোতিষকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এখন বামফ্রণ্ট সরকার সব দলকে একসঙ্গে নিয়ে এই অস্বাস্থ্যকর সংক্রমণ রুখতে ব্যবস্থা নিক।” বামফ্রণ্টের জীবন সাহা বলেন, “কিছু চ্যানেলে দিনভর জ্যোতিষ আর ফেংশুই চলছে। এরা অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নানা উপায়ে টাকা নিচ্ছেন। অন্ধ বিশ্বাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে টিভির পর্দায় এসব কাজ বন্ধ করা দরকার।” এদিন প্রথমার্ধে উল্লেখপর্বে বিধায়কদের বক্তব্য শোনার পর বিকেলে সভাকক্ষে এসে সোনালি গুহ’র সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সোনালি বলেন, টিভিতে স্লট কিনে যদি যা ইচ্ছা প্রচার করার অধিকার কারও থাকে, তা হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী সোনালিকে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলে কী করা যায় তা স্থির করছেন। এরপরেই লবিতে নিজে সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন এই অপরাধ থামাতে কী কী আইন আছে তার খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। এদিন অধিবেশন কক্ষের বাইরেলবিতেও সিপিএম, আরএসপি সহ অন্যান্য দলের ১৪ জন বিধায়ক একই কথা বলেন। অধ্যক্ষ হাসিম আবদুল হালিম বলেন, “বিধায়করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। জ্যোতিষের নামে এধরনের প্রতারণা চলতে পারে না।” এদিন বিধানসভায় গোটা বিষয়টি নিয়েই চলেছে জল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও তথ্যদফতরকে এ নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে বলেছেন। বিধায়করা প্রায় সকলেই বলেন, “আইন প্রয়োগের আগে শুভবুদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিক সংশ্লিষ্ট কেবল চ্যানেলগুলি। বিধানসভার উদ্বেগকে মর্যাদা দিয়ে ভাগ্য ভণ্ডামির সব অনুষ্ঠান বন্ধ বলে ঘোষণা করে সুস্থ অনুষ্ঠান উপহার দিক তারা। অন্যথায় এ নিয়ে সামাজিক আন্দোলন এবং আইনি প্রক্রিয়ার কাজ দ্রুততর করতেই হবে।” বিধায়কদের বক্তব্য, কেবল চ্যানেলগুলি বিধানসভার এই আহ্বান রক্ষা করে কি না নজর রাখা হবে। তারপর পরবর্তী পর্যায়ের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এঁদের আরও বক্তব্য, “কেবল টিভির আইনে কী আছে সেটা পরের কথা। কিন্তু খোদ মুখ্যমন্ত্রী এবং বিধানভার বক্তব্য মেনে চ্যানেলগুলিরই উচিত লাইভ ফোন-ইন জ্যোতিষের অনুষ্ঠান বন্ধ বলে ঘোষণা করা। অন্যথায় প্রমাণিত হবে সেইসব চ্যানেল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য না মেনে আইনি সংঘাতে যেতে চায়। সেক্ষেত্রে আমরাও পরবর্তী কর্মসূচির কথা ভাবব।”