বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৪০৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৯৮

কবিতা—৪২ (সেঃ—৭)

 একেই এই সেঞ্চুরিতে কবিতা মাত্র ৪২টি। তার ওপর এরিকা আবার বেশিরভাগই ব্যাখ্যা করতে পারেননি। ব্যাখ্যা করা কবিতার সংখ্যা মাত্র ১৮। তাই আপনাদের কাছে পরিবেশন করার মতো ভালো কবিতা এই সেঞ্চুরি থেকে বিশেষ পেলাম না। এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আরো একটি কথা—নস্ট্রাডামুসের সব কবিতার ব্যাখ্যা কিন্তু এখনও কেউ করেননি। অর্থাৎ এখনও গোঁজামিলের সূত্রগুলো আবিষ্কার করতে পারেননি।

Deux de poison saisiz nouveau venuz,
Dans la cuisine du grand Prince verser :
Par le souillard tous deux au faicts congneuz,

 এর অর্থ হল:

যে দুজন নতুন এসেছে, তারা বিষের পাত্র নেবে তুলে,
রাজার রান্নাঘরে যাবে সে বিষ-পাত্র নিয়ে :
যে বাসন পরিষ্কার করে, সে হাতেনাতে ধরবে তাদের,
নিয়ে আসবে রাজার সামনে একজনকে, পালাবে অন্যজন।

 ব্যাখ্যাকারের ব্যাখ্যা: একটি রাজহত্যার চক্রান্ত

 ঘটনাটাকে ব্যাখ্যা করার বিশেষ প্রয়োজন নেই, কেননা কবিতার বক্তব্য স্পষ্ট।—বলেছেন চিটহ্যাম। তবে ঘটনাটা কোথায়, কবে ঘটবে, তা বলতে পারেননি।

 যুক্তিবাদী বিশ্লেষণ:

 ঘটনাটা ঘটেনি, তাই অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় কী? তবে খেয়াল করুন, ঘটনাটা এমনই, যা নস্ট্রাডামুসের সময়ে, বা তার আগে প্রচুর ঘটত। আমাদের দেশেও রাজা, সম্রাটদের আমলে এ ধরনের ঘটনা, অর্থাৎ খাবারে বিষ মিশিয়ে রাজহত্যার চক্রান্ত ঘটত। নস্ট্রাডামুস নিজেও এখানে বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। কেননা তাঁর নিশ্চয়ই মনে হয়েছিল পৃথিবীর কোনো না কোনো দেশে, কোনো না কোনো দিন এ ধরনের ঘটনা ঘটবে। তাই তা উল্লেখ করে এ কবিতা লিখেছেন।

 কিন্তু এরিকা বলেছেন যে, এ ধরনের ঘটনা কোথাও এখনও ঘটেনি। আমার মনে হয় এরিকা আর একটু খাটলে, আর একটু ইতিহাস-বই ঘাঁটাঘাঁটি করলে এর সঙ্গে ‘জুড়ে দেবার’ মতো অনেক ঘটনাই পেয়ে যেতেন।

 আর একটা কথা। রাজাদের দিন কিন্তু প্রায় শেষ হয়েছে। অতএব এই কবিতার ভবিষ্যতে সাফল্যলাভের সম্ভবনা খুবই ক্ষীণ কেননা এতে একজন ‘রাজা’কে হত্যার চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।