রহস্যময়, যতখানি গা শিরশিরে করে পাতে ফেলা যাবে, ততই উপাদেয় হবে, পাঠক-পাঠিকারা হাপুস-হুপুস করে চেটে-পুটে খাবে। ফলে শুরু হয়ে গেল অলিখিত এক বিশাল গালগপ্পো, গুলগপ্পের সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা। তাতে এ বলে, ‘আমায় দ্যাখ্’ তো, ও বলে, ‘আমায় দ্যাখ’। পত্রিকাগুলো নেমেছে ব্যবসা করতে। ওরা তো আর 'দেশ সেবা' করতে পত্রিকার ব্যবসা খোলেনি। অতএব সব জেনেও এইসব গপ্পো লেখক, সম্পাদক ও মালিকরা সত্যের দিক থেকে চোখ উল্টে রেখে নীতিকে ছাঁট-কাট করে নিজের জুতোর সুখতলায় বসিয়ে নিয়েছে। সবারই অবস্থা প্রায়, ‘এলোমেলো করে দে মা, লুটে-পুটে খাই’।
এমনই সময়ে আর একটি গুলের পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটাল বাংলা ভাষার জনপ্রিয় পত্রিকা ‘আনন্দমেলা'। পাঠক-পাঠিকা যে-হেতু ‘গুঁড়ো থেকে বুড়ো’, তাই প্রতিক্রিয়াও হল ব্যাপক। যে পড়ে, সেই ধরে নেয়—‘নস্ট্রাডামুস মানেই এক অভ্রান্ত জ্যোতিষী।’ এমন এক আগাপাশতলা গুলগপ্পো পড়ে ও শুনে কত লক্ষ দ্বিধাগ্রস্ত মানুষ যে পুরোপুরি অদৃষ্টবাদী হয়ে গেল, একটা পরিপূর্ণ মিথ্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করল, তার হিসেব কে রাখে? মগজ ধোলাই করে এমন এক সর্বনাশা মিথ্যা বিশ্বাস মানুষের মাথায় ঢোকাতে পেরে কারো কারো আরও কোনও বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষিত হয়েছে, তারই এক নিষ্ঠুর উদাহরণ ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মুর্শিদাবাদ শাখা কর্তৃক প্রচারিত বই ‘নোস্ট্রাডামাসের সেঞ্চুরি ও পৃথিবীর ভবিষ্যৎ’। অনুবাদক শম্ভুনাথ বাগচী, এম. কম, এল. এল. বি. (অ্যাডভোকেট)। বইটির ১১ পৃষ্ঠার একটু অংশ তুলে দিচ্ছি:
চতুষ্পদী নং ৯৫—শতক নং ৩
মুসলমান সাম্রাজ্য ধ্বংস
হবে হিন্দুদের হাতে
বেশির ভাগ মুসলমানই
হবে নিহত,
ভারত করবে আণবিক
বোমা বিস্ফোরণ,
মহম্মদ হবে চিরদিনের
তরে নিথর ও নিস্তব্ধ।
‘আলোকপাত’ পত্রিকায় এই চতুষ্পদী নয় ৯৫—শতক নং-৩-এর অনুবাদ করা হয়েছে এই ভাবে:
মূরদের মতাদর্শ চলে যাবে বিলুপ্তির পথে
জনপ্রিয়তর কোনও অন্য এক অমিয় আহ্বানে
নীপার নদীটির কোলে সেই জন্মলব্ধ শিশু
সর্বত্র ভরিয়ে দেবে অন্য সুরে অন্য কোন গান।