নস্ট্রাডামুসের কোনও ভবিষ্যদ্বাণীতে যে-হেতু সুনির্দিষ্ট ভাবে কোনও কিছুই বলা হয়নি, সুতরাং তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মধ্যে অন্তত একটি সত্যি হয়েছিল, এমন কথা জোর করে বলার মতো কোনও সুযোগই নেই। তাই এমন কথাও আদৌ বলা চলবে না, “নস্ট্রাডামুসের আগের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো যে-হেতু ঠিক হয়েছে, সুতরাং পরেরগুলোও ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” তবু এমন কথা কেউ কেউ বলে। এমন কথা তারাই বলে যারা রজক-বন্ধু গর্দভ, অথবা রজত-বন্ধু খচ্চর।
যদি এমনটা সত্যিই হত যে, নস্ট্রাডামুসের অতীতের প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণীই ঠিক হয়েছে; তবুও বলা চলত না—“অতএব এই এক ডজন ভবিষ্যদ্বাণীও ঠিক হবার সম্ভাবনা উজ্জ্বল”, কারণ ওই এক ডজন ভবিষ্যদ্বাণী তো নস্ট্রাডামুসের লেখাই নয়, তাঁর কোনও সেঞ্চুরিতেই নেই। আর দশজন নস্ট্রাডামুসের কবিতার ব্যাখ্যাকারের মতই এই এক ডজন ব্যাখ্যার লেখকও নস্ট্রাডামুসের নাম ভাঙিয়ে নিজের ইচ্ছে মতো যা খুশি তাই লিখে গেছেন। তবে অনেক লেখকের লক্ষ্যের সঙ্গে এই লেখকের লক্ষ্যের অনেক পার্থক্য আছে বলেই মনে হয়। অন্যেরা গুলগপ্পো ফেঁদে ছিলেন কিছু কামিয়ে নিতে, কিছু ফালতু নাম কুড়োতে; আর ইনি গুলগপ্পো ফেঁদেছেন হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে অবিশ্বাস, শত্রুতা ও ঘৃণা সৃষ্টি করতে।
ডঃ সুধীর বেরা’র ‘নস্ট্রাডামের ভবিষ্যদ্বাণী ও ভারতের ভবিষ্যৎ’ তো ‘হট কেকে’র মতই বিক্রি হয়েছে। তাঁর বইয়ে তাই-ই আছে যা বইটি প্রকাশের আগে আলোকপাত ও আনন্দমেলা’য় প্রকাশিত হয়েছিল। বাড়তির মধ্যে আছে একটি বড় খবর; খবরটা ওর বইয়ের ৫১ পৃষ্ঠা থেকে তুলে দিচ্ছি:
“প্রখ্যাত সাংবাদিক খুশবন্ত সিং নস্ট্রাডামের ভবিষ্যৎবাণীগুলি অভ্রান্ত এ কথা বিশ্বাস করতে চাননি। তিনি লিখেছিলেন যারা বিশ্বাস করেন তাদের মাথার স্বাভাবিকত্ব সম্বন্ধে তিনি সন্দিহান ছিলেন। পরে নস্ট্রাডামের আগাম ভবিষ্যদ্বাণীগুলির হিরণ্যাপ্পা ও অন্যান্যদের কৃত অনুবাদগুলি পড়ে এবং পরবর্তী ঘটনাগুলি মিলিয়ে দেখে তিনি তাঁর পূর্বের মতো আমূল পরিবর্তন করেন।”
নস্ট্রাডামুসের কবিতার ব্যাখ্যার নামে দু-মলাটের মাঝে এত গুলগল্পের দাপাদাপি দেখে কিঞ্চিৎ সন্দেহের উদ্বেগ হয়েছিল—খুশবন্ত সিং-এর ব্যাপারটাও আবার...
বইটা পড়েই চিঠি লেখা হল খুশবন্ত সিং’কে। ডঃ সুধীর বেরা’র বইয়ের ওই অংশটা তুলে দিয়ে এই বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর পাঠালেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক খুশবন্ত সিং। ছোট্ট চিঠি।
প্রিয় শ্রীঘোষ
ডঃ সুধীর বেরা একজন মিথ্যেবাদী, অথবা হিরণ্যাপ্পা একটি আরও বড়