লোক ঠকিয়ে ব্যবসা
যে দেশে ডাইনি সন্দেহে মেয়েদের পিটিয়ে মারা হয়, পর পর কন্যাসন্তান প্রসব করলে বাড়ির বউকে ‘অপয়া’ আখ্যা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির থেকে বিতাড়িত হতে হয়, সেই দেশে জ্যোতিষচর্চার মতো বুজরুকি ব্যবসা মানুষকে সর্বস্বান্ত করবে, সেটাই স্বাভাবিক। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষায় আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে। বিশ্বে নারীশিক্ষায় ভারতের স্থান নিরীক্ষণ করতে হলে অনুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন। অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে জ্যোতিষীরা অসহায় মানুষদের প্রতারিত করছে। এটা অমার্জনীয় অপরাধ। ‘অপহরণের মাধ্যমে পণ আদায় করা’ ‘নারী পাচার করা’ কিংবা ‘মাদকদ্রব্যের চোরাচালান’ প্রভৃতির সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের সঙ্গে জ্যোতিষীদের লোক ঠকানো ব্যবসার কোনও তফাত নেই। তফাত এখানেই, জ্যোতিষীরা অন্যায় করেছে জেনেও, সরকার এদের বিরুদ্ধে কোনওরকম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
দায়বদ্ধ অবশ্যই আমরা
আমাদের দেশে ‘ড্রাগ অ্যাণ্ড ম্যাজিক রেমিডিস (অবজেকশন্যাবল অ্যাডভারটাইজমেট) অ্যাক্ট’ ১৯৫৪ সালে সংসদে পাস হওয়া আইন বলে প্রতিটি জ্যোতিষীর প্রতারণার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন সরকার তথা প্রশাসনের। টিভি চ্যানেলগুলিতে জ্যোতিষীদের ‘ফোন ইন’ (লাইভ) অনুষ্ঠানে প্রায় প্রতিটি ফোনই গটআপ! আমি নিজে বহুবার ওইরকম অনুষ্ঠানে লাইন পাওয়ার পর প্রতিবারই অদৃশ্য কারণে অন্য প্রান্ত থেকে লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। আসলে অপরিচিত কোনও কণ্ঠস্বর শুনলেই এদের পিলে চমকায়। কেব্ল চ্যানেলগুলি, যাঁরা নীতিজ্ঞান বিসর্জন দিয়ে জ্যোতিষীদের বিভ্রান্তিমূলক অনুষ্ঠান প্রচারের সুযোগ করে দিয়ে অসংখ্য মানুষের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি করে চলেছেন, তাঁরা একবার ভেবে দেখবেন কি, এই সমাজের প্রতি তাদের কোনওরকম দায়বদ্ধতা আছে কি না? এই দায়বদ্ধতা আমাদের প্রত্যেককে গড়ে তুলতে হবে।
সবটাই উপরচালাকি
কেবল চ্যানেলের জ্যোতিষীদের সম্পর্কে কিছু ভাল-মন্দ বলার আগে একটা মজার অভিজ্ঞতা বরং 'শেয়ার' করা যাক। এক ভদ্রলোক নিজের সন্তান সম্পর্কে জানতে চেয়ে জন্মছক থেকে ‘ডেট অফ বার্থ' ইত্যাদি বললেন। পলকের মধ্যে কী সব অঙ্কটঙ্ক করে (কোয়াণ্টাম!) সঙ্গে সঙ্গে বলে দিলেন ছেলের পড়াশোনা ব্যাপক, স্কলার ছেলে, পশ্চিম স্থানে কন্যারাশির ঘরে রবি-বুধ (স্বক্ষেত্রী) এ বুধাদিত্য যোগ। ভদ্রলোক এবার অপ্রতিভ হয়ে বললেন, সন্তান না জন্মাতেই এত কিছু। জ্যোতিষ সম্রাট বললেন, কেন ওই তো ডেট বললি। ‘কলার’ শুষ্ক কণ্ঠে বললেন, তিন বছর বিয়ে হয়ে গিয়েছে, সন্তান নেই, তাই ফোন করছিলাম। বিন্দুমাত্র ঘাবড়ে না গিয়ে গণক ঠাকুর বললেন, ওঃ হ ওটা তা হলে তোর ফলাফল। ‘কলার’ ঘাবড়ে গিয়ে বলল, আমি যে মাধ্যমিকও নই।