
কলকাতা ২৪ মার্চ ২০০৫ বৃহস্পতিবার ১০ চৈত্র ১৪১১ ২.০০ টাকা দশপাতা সঙ্গে খেলার দুনিয়া
‘অভিযোগ জানান, ব্যবস্থা নেব’
স্টাফ রিপোর্টার: শহর ও শহরতলিতে ছড়িয়ে থাকা সততার মুখোশধারী ভণ্ড জ্যোতিষীদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সাধারণ মানুষকেই সবচেয়ে বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন কলকাতা পুলিশের ডিসি সদর রণবীর কুমার। জ্যোতিষীদের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ। প্রয়োজন হলে অভিযোগকারীর নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের নাম ও পরিচয়ও গোপন রাখা হবে বলে ডিসি সদর পরিষ্কার জানান। ডিসি সদরের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান জ্ঞানবন্ত সিং জানান, নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর পেলেই আমরা প্রয়োজন মতো জাল জ্যোতিষীদের উপর সাদা পোশাকের গোয়েন্দা তদন্তও চালবে। তবে এর জন্য পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও একটা সামাজিক দায়িত্ব থাকে বলে পুলিশ কর্তারা মনে করেন। তাঁরা স্পষ্টই জানান, “কোথায় কোন জ্যোতিষী লোক ঠকানোর ব্যবসা ফেঁদেছে সেই খবর আমাদের কাছে পৌঁছে দিন। আমরা সেই ভণ্ড জ্যোতিষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”
ভণ্ড জ্যোতিষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের কথা কিছুদিন আগেই বিধানসভায় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ জারির পরেই জ্যোতিষীদের ভণ্ডামির বিষয়ে সতর্ক হয় রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ। সতর্ক হন রাজ্যের গোয়েন্দা কর্তারাও। এ বিষয়ে কলকাতা পুলিশের ডিসি-সদর রণবীর কুমার বুধবার জানান, “জ্যোতিষ চর্চার বিষয় পুরোপুরি মানুষের বিশ্বাসের উপর নিইয়ে করে। অন্ধ বিশ্বাসে মানুষ জ্যোতিষীদের কাছে ছোটেন। মানুষের এই সরল মানসিকতা ও বিশ্বাসকে দুর্বলতা জেনে অধিকাংশ ভণ্ড জ্যোতিষীই তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে। এটা বড় ধরনের জালিয়াতি ও মারাত্মক অপরাধ। ধরা পড়লে ও দোষ প্রমাণিত হলে আদালতে ভণ্ড জ্যোতিষীদের সাজাও হতে পারে।” ডিসি-সদর রণবীর কুমার জানান, মানুষ এখনও জ্যোতিষের উপর নির্ভরশীল। তার উপর জ্যোতিষীদের পোষা লোকজনের ভয়ে অনেক মানুষ প্রতারিত হয়েও পুলিশের কাছে মুখ খুলতে চান না। এতে আমাদের কাজের সমস্যা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ধৃত জ্যোতিষীর বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষী দিতে যেতে চান না অনেকেই। এর ফলে গ্রেফতার হলেও সাক্ষীর অভাবে জালিয়াত জ্যোতিষীরা আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। পুলিশি তদত্তও ব্যাহত হয়। তাই ডিসি সদরের আবেদন, শুধু পুলিশ নয়, ভাগ্য-ভণ্ডামি রুখতে সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসুন।