বিজ্ঞাপন দিলেন। আর সেই বিজ্ঞাপনের ঠেলা সামলাতে আমাদের জেরবার অবস্থা। ইতিমধ্যে যেখানেই ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ শিরোনামে অনুষ্ঠান করতে আমাদের সমিতি গিয়েছে, সেখানেই কিছু কিছু শ্রোতা ও দর্শক আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন—“নির্বাচন নিয়ে অমৃতলালের ভবিষ্যদ্বাণী যে একশো ভাগ খেটে গেল, সে বিষয়ে আপনারা কী বলেন?” অনেকে তো বিজ্ঞাপনটি পর্যন্ত হাজির করেছেন আমাদের সামনে বিজ্ঞাপনটি কী বিপুলভাবে জনগণকে প্রভাবিত করেছে—ভাবুন তো?
১৮ মে ১৯৯১ ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ পত্রিকায় অমৃতলালের নির্বাচনী ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল, সেই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষই বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছিল। অতএব, ভবিষ্যদ্বাণীটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, এবং পত্রিকার প্রকাশকাল হিসেবে ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগের তারিখ ছাপা হয়েছিল—এই যুক্তি অমৃতলালের এই ভবিষ্যদ্বাণীর ক্ষেত্রে খাটে না। খুবই সত্যি কথা। কিন্তু, ভবিষ্যদ্বাণীর কোন্ অংশ মিলল? মিলল, সি. পি. এম পশ্চিমবঙ্গে শাসনক্ষমতায় আসবে, এবং জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হবেন—এই অংশটুকু। পশ্চিমবঙ্গের বিধানভায় নির্বাচনের আগে বহু কাগজে নানা বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মতামত। প্রতিদিনই বেশ কয়েকটি পত্র-পত্রিকা পড়ি। মনে পড়ে না, এমন কেউ মত প্রকাশ করেছেন—পশ্চিমবঙ্গে সি.পি.এম. ক্ষমতায় আসতে পারবে না? আর সি. পি. এম. ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে জ্যোতি বসুকে সরিয়ে অন্য কাউকে আনা হবে—এমন উদ্ভট মতামতও কেউই প্রকাশ করেননি। জ্যোতিষশাস্ত্রের সাহায্য না নিয়ে, মুখ থেকে দুধের গন্ধ না যাওয়া পশ্চিমবাংলার বালক-বালিকারাও জানত সি. পি. এম. ক্ষমতায় আসছে। যে কথা সক্কলেরই জানা, সে কথাটাই বলে অমৃতলাল আহ্লাদে আটখানা হয়ে ঢাউস ঢাউস বিজ্ঞাপন দিয়ে জনগণকে জানাতে লাগলেন—কী বিস্ময়কর তাঁর নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী।
সত্যি বিস্ময়কর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন অমৃতলাল। অমৃতলাল ঐ ১৮ মে সংখ্যার ‘সাপ্তাহিক বর্তমান’ পত্রিকায় দীপ্ত ঘোষণা রেখেছিলেন, (১) “রাজীব গান্ধীর পক্ষে সময়টা শুভ।” (২) “শনি পঞ্চমে, বৃহস্পতি একাদশে। ফলে, রাজীব গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ প্রবল। তিনি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেনই।” (৩) “কংগ্রেস নির্বাচনে দলগতভাবে প্রথম স্থানে থাকবে। আসন পাবে ২৭০টিরও বেশি।” (৪) “বি. জে. পি. গতবারের তুলনায় তেমন খারাপ ফল করবে না। আসন সংখ্যা অবশ্য কিছুটা কমতে পারে।” (৫) “জনতা পার্টির কন্যা রাশি। বর্তমানের দলটির বৃহস্পতি একাদশে ও শনি পঞ্চমে অবস্থান করছে। ফলে আগের তুলনায় দলের আসন সংখ্যা কিছুটা বাড়তেও পারে।”
এইসব ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বাস্তবে যে রূপ পেল, তা হল—(১) রাজীব গান্ধীর পক্ষে সময়টা ছিল সবচেয়ে খারাপ। কারণ, নির্বাচন চলাকালীন তাঁর মৃত্যু ঘটে।