(২) রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হননি। হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ সে সময় তিনি মৃত। (৩) কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ২৭০-এর বেশি না হয়ে হয়েছে ২০০-টিরও কম। (৪) বি. জে. পি-র লোকসভার আসন সংখ্যা গতবারের চেয়ে অনেক বেড়েছে। (৫) জনতা পার্টির আসন সংখ্যার প্রচণ্ড রকম কমেছে।
এই পাঁচটি ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতিটি চূড়ান্তভাবে মিথ্যে প্রমাণিত
হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অমৃতলালের জ্যোতিষবিদ্যার গ্যাস
বেলুনটি গেছে ফেটে। প্রমাণিত হয়ে গেছে,
আরও পাঁচটা জ্যোতিষীর মতনই
তাঁর জ্যোতিষ-বিদ্যাও
বুজরুকিতে ভরা।
এর পরেও কেউ বলতে পারেন—১৯৯১-এর নির্বাচনের ব্যাপারে অমৃতলালের ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হয়েছে, এ কথা সত্যি, কিন্তু একবারের ব্যর্থতা বুজরুকির প্রমা নয়। তাঁদের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই ১৯৮৯-এর ভারতবর্ষের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে অমৃতলালের ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে।
২৪-৩০ নভেম্বর ১৯৮৯ সংখ্যার সাপ্তাহিক ‘পরিবর্তন’-এ অমৃতলালের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে অমৃতলাল জানিয়েছিলেন, “বিরোধী দলগুলির বিশেষত বি. জে. পি-র অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক হবে। ভোটে তাদের আসন দারুণভাবে কমবে। সুতরাং বিরোধী জোট যেখানে মন্ত্রিসভা গড়তেই পারবে না। সেখানে সেই মন্ত্রিসভার আয়ু নিয়ে কোন প্রশ্নই আসে না।” কিন্তু বাস্তবে শাসকদল কংগ্রেসেরই ভরাডুবি হয়েছিল। বি. জে. পি-র আসন সংখ্যা বেড়েছিল অভূতপূর্ব; বেড়ে ছিল ভোটও। আর শাসকদলকে হারিয়ে বিরোধী দলই মন্ত্রিসভা গড়েছিল।
অমৃতলাল এও জানিয়েছিলেন “কংগ্রেস (আই)-এর আগামী লোকসভায় সদস্য সংখ্যা ৩৫০-৪০০ হতে পারে।”
হায় অমৃতলাল! হায় আপনার ভবিষ্যদ্বাণী!
অমৃতলাল আবার ঐ সাক্ষাৎকারে ভি. পি. সিং, চন্দ্রশেখর, হেগড়ে, এন. টি. রামা রাও, জ্যোতি বসু ও রাজীব গান্ধীর জন্ম বিচার করে শেষ পর্যন্ত ঘোষণা করেছেন, “আগামী কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন রাজীব গান্ধী।”
জ্যোতিষ বিচার’কে হাস্যকর প্রমাণ করে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ভি. পি. সিং।
আর একজনের প্রচারও বহু মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি হলেন ‘রাজজ্যোতিষী আচার্য নরোত্তম সেন’, বহু পত্র-পত্রিকার বিজ্ঞাপনে নিজের ছবি ছেপে তার পাশে বিশাল বিশাল হরফে ঘোষণা রাখছেন “রাজীব ও সোনিয়া গান্ধীর সঠিক ভাগ্যের গণক।”