বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]
৬৭

করেছিলেন বলে দাবি করে কীভাবে জনসাধারণকে প্রতারিত করেই চলেছে সে নিয়ে আগেই আলোচনা করেছি।

 ভাবলে অবাক হতে হয়, এই সব প্রতারকেরা কি নিশ্চিন্তে সমাজের বুকে জাঁকিয়ে বসে প্রতারণা চালিয়েই যাচ্ছে, এবং সরকার উদাসীন ও নীরব।

 এইসব রাজনৈতিক নেতারা অনেকেই নিজেদের নীরবতার পক্ষে যে অকাট্য যুক্তিটি দেখান তা হল—জনসাধারণের ধর্ম বিশ্বাসের সঙ্গে জ্যোতিষ-বিশ্বাস মিলেমিশে এমনই একাকার হয়ে গেছে যে, জ্যোতিষীদের আঘাত করতে গেলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের বিশ্বাসকেই আঘাত করতে হয়। আর এমন আঘাত করার অর্থ সাধারণ মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।

 এমন যুক্তির অবতারণা যারা করে থাকে তাদের মধ্যে তথাকথিত কিছু মার্কসবাদী পার্টিও আছে। একটি মার্কসবাদী দল পশ্চিমবঙ্গে ব-কলমে একটি বিজ্ঞান সংস্থা চালায়। সেই বিজ্ঞান সংস্থা তো সিদ্ধান্ত নিয়েই বসে আছে—কোনও জ্যোতিষী বা অবতারদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও বক্তব্য তারা রাখবে না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কতটা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ভোটার তোষণের জন্য, কতটা নির্বাচনের পিছনে তহবিল ভরিয়ে দেওয়া বেনিয়া বা হুজুর শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার্থে, সে কূট কচকচালিতে না গিয়েও এই সিদ্ধান্তে আমরা অবশ্যই নির্দ্বিধায় পৌঁছতে পারি—এইসব বহুরূপীরা মুখে কুসংস্কার মুক্তির কথা যতই বলুক বাস্তবে সাধারণ মানুষকে অদৃষ্টবাদী করে রাখতে চায়। এরা অবশ্যই চায়, সাধারণ মানুষ তাদের বঞ্চনার কারণ হিসেবে দায়ি করুক পূর্বজন্মের কর্মফলকে, ঈশ্বরের কৃপা না পাওয়াকে।

 আমাদের দেশে ধর্মবিশ্বাসে চালিত হয়ে নরবলি ছিল, সতীদাহ প্রথা। এগুলোর বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের সময় কিছু মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিশ্চয়ই স্বার্থে, কুসংস্কারমুক্ত স্বচ্ছ চেতনার মানুষ গড়ার স্বার্থে কোনও ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত হানার বিরুদ্ধে কোনও যুক্তিই আদৌ ধোপে টেকে না, টিকতে পারে না। অবশ্য সাধারণ মানুষের চেতনাকে বেশিদূর পর্যন্ত এগোতে দেওয়া বিপজ্জনক মনে করে যদি এই যুক্তি হাজির করা হয়ে থাকে, তবে অন্য কথা, কারণ এই সত্যটা তাদের অজানা নয়—

যুক্তি আনে
চেতনা
চেতনা আনে
সমাজ-পরিবর্তন।