ছিলেন, তখন সপ্তাহে একটি দিন অফিস যেতেন এবং অ্যাটেনডেন্স খাতায় সারা সপ্তাহের সই করে আসতেন। দেশে যখন তীব্র বেকার সমস্যা, বহু শিক্ষিত বেকার যখন এমপ্লয়মেণ্ট কার্ড করে ইণ্টারভিউ দিতে দিতে চাকরি পাওয়ার বয়েস পেরিয়ে যাচ্ছেন, ডুবে যাচ্ছেন হতাশায়, তখন একটা অতি সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এমন একটি মোটা মাইনের ফাঁকি মারা সুখের চাকরি পেয়ে আমার আত্মীয়টি নিজেকে প্রচণ্ড ভাগ্যবান বলে গর্ব করতেন।
আমার এক স্নেহভাজন ক্যারাটে জুডো ও যোগ ব্যায়ামের প্রশিক্ষক হঠাৎ এক মন্ত্রীর কৃপায় সল্ট লেকে একটা প্লট পেয়ে যাওয়ার ভাবতে শুরু করেছিলেন, ভাগ্যটা ওঁর খুবই ভাল হচ্ছে।
এবার আসুন একটু সাহিত্যজগতে বিচরণ করা যাক। অনুমান করুন তো, কে সেই বাংলা সাহিত্যের দিকপাল অসাধারণ সাহিত্যিক যিনি ১৯৭৬ সালে আমেরিকার বালটিমোরে অনুষ্ঠিত ৩য় বিশ্ব কবি সম্মেলনে ১৯৭৭-এ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৪২-তম বিশ্ব সাহিত্য সম্মেলনে, ১৯৭৭-এ ফিলিপাইনে প্রশান্ত মহাসাগরীয় লেখক সম্মেলনে, ১৯৭৮-এ কোরিয়ার সিওল-এ ৪র্থ বিশ্ব কবি সম্মেলনে এবং ১৯৮১-তে সানফ্রানসিসকোতে ৫ম বিশ্ব কবি সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন?
আপনাদের চোখের সামনে নিশ্চয়ই অনেক নামই ভেসে উঠছে, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অরুণ মিত্র, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, দিব্যেন্দু পালিত, রমাপদ চৌধুরী, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, দেবেশ রায়, বিমল কর, নবনীতা দেবসেন ইত্যাদিদের নাম। না হলো না। আপনাদের অনুমান মিলল না। উনি হলেন বিশ্বজয়ী সাহিত্যিক সুধীর বেরা। ওঁর নাম শোনেননি মনে হচ্ছে? তবে ওঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম জানাচ্ছি, ‘লগ্ন’ ‘শাহানা’, ‘সূর্যনাগ’, ‘অন্যদিন’ ও ‘অভিজ্ঞান'। কী? এইসব কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম কোনদিনই শোনেননি। দেখেননি? পড়েননি? আমিও শুনিনি, দেখিনি, পড়িনি। সুধীর বেরার লেখা একটি জ্যোতিষ বিষয়ক চটি পুস্তিকা ‘নস্ট্রাডামের ভবিষ্যৎবাণী'-তে ছাপা সুবিশাল জীবনীপাঠে এসব অমূল্য তথ্য জানতে পেরেছি। আরো জানতে পেরেছি তিনি ছিলেন ১৯৭১ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সদস্য এবং ১৯৭৫-এর সুপ্রিম কোর্টে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী আপিল মামলায় শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর অন্যতম কৌসুলি। জানি না রাজনীতির কল্যাণেই সাহিত্যিক হিসাবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না? তেমনটি ঘটে থাকলে অবশ্য ভাগ্যে বিশ্বাসী, জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক।