বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭২
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

আমাদের মতন সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে
পড়া দেশগুলোতে, যেখানে পদে পদে অনিশ্চয়তা,
সেখানে মানুষ ভাগ্যে বিশ্বাসী হবে, দৈবকে
আশ্রয় করে বাঁচতে চাইবে,
এটাই স্বাভাবিক।

 একদিকে লক্ষ কোটি মানুষ যেমন জীবনযুদ্ধে বার বার ব্যর্থ হয়ে অদৃষ্টে বিশ্বাসী হয়ে পড়ে, অন্যদিকে তেমনই শাসকগোষ্ঠীর কৃপায়, অথবা যে কোনও প্রকার ঘুষের বিনিময়ে যখন কিছু সাধারণ মানুষ হঠাৎ অর্থে, সন্মানে অসাধারণ হয়ে ওঠে, তখন তারাও একে নিজেদের সৌভাগ্য বলেই মনে করতে থাকে।

 আমাদের সমাজব্যবস্থায় বহুক্ষেত্রেই পুরুষকার অর্থাৎ কর্মপ্রয়াস শুধুমাত্র ক্লান্ত ও পর্যুদস্ত হয়। আর সেই সময় পরিবেশগতভাবে প্রাপ্ত বিশ্বাসের ভিত্তিতে জীবনযুদ্ধে বঞ্চিত, পর্যুদস্ত মানুষগুলো এর জন্য আমাদের সমাজের অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়িয়ে সেগুলোকে ‘ভাগ্যের মার' বলে গ্রহণ করে। দৃষ্টি ফেরানো যাক খেলোয়াড়, অভিনেতা, সংগীতশিল্পী, আইনজীবী, রাজনীতিবিদদের দিকে। দেখবেন এঁদের বেশিরভাগই আন্তরিকতার সঙ্গেই ভাগ্যে বিশ্বাসী। এই ভ্রান্ত বিশ্বাস এসেছে এঁদের জীবনযুদ্ধের অনিশ্চয়তা থেকে। কর্মজীবনের উত্থান-পতনকে এঁরা ভাগ্য বলেই ধরে নেন। বহুদিন রানের মধ্যে না থাকা ব্যাটসম্যান রান পেলে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরছে বলে ধরে নেন। অতি সাধারণ আর্থিক অবস্থা থেকে যখন কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীর উত্তরণ ঘটে সুপাস্টারে, তখন বিশাল নাম, বিপুল বৈভবের সুখে ডুবে যেতে যেতে সবকিছুরই স্বপ্নের মতন মনে হয়। হঠাৎ পাওয়া যে সুযোগের হাত ধরে এতখানি উঠে আসা (তা সে যত কঠিন কঠোর সংগ্রামের জের হিসেবেই আসুক না কেন) তাকে একটি ‘ঘটনা’ বলে মেনে না নিয়ে ‘ভাগ্য’ বলে মানতেই মন চায়।

 একালের সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী আজ চূড়ান্ত অদৃষ্টবাদী। যে সংগ্রামী মিঠুন এক সময় নিজেকে মার্ক্সবাদী বলে সোচ্চারে পরিচয় দিতেন, সুপারস্টার হয়ে ওঠার কারণ হিসেবে ভাগ্যকে চিহ্নিত করলেন। পেলে থেকে পি. কে, সোবার্স থেকে শচিন, মাইকেল জ্যাকসন থেকে উদিতনারায়ণ, এঁদের প্রত্যেকেরই একটি বিষয়ে প্রগাঢ় বিশ্বাস, আর তা হলো 'ভাগ্য'। এঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই ভাগ্য-বিশ্বাস এসেছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় জীবনের অনিশ্চয়তা থেকে।


 আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখুন, এখানে পদে পদে অনিশ্চয়তা। দেশের বেশিরভাগ মানুষ ভয়ংকর দারিদ্র্যের শিকার। ওদের যেদিন পেটে ঢোকাবার মতন কোনও বস্তু জোটে (তা সে কোনও বাড়ির এঁটো-পচা