চিন্তা বিভ্রান্ত হয় প্যারাসাইকোলজিস্টদের দ্বারা, বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানকে কাজে লাগানো কিছু মানুষের দ্বারা। এই বিজ্ঞানবিরোধিতা ঠেকাবার রাস্তাও সঙ্গে সঙ্গে খুঁজে নিচ্ছে বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী মানুষরাই।
আমাদের দেশের মানুষদের মধ্যে জ্যোতিষ-বিশ্বাসীর শতকরা আনুমানিক হার নিয়ে কোনও গবেষণা এখনও পর্যন্ত হয়নি। তবে অতি সামান্যভাবে আমাদের সমিতি প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের ওপর কিছু অনুসন্ধান চালিয়েছে। অবশ্য আমাদের অনুসন্ধানগুলোর মতামত সংগৃহীত হয়েছিল আমাদের সমিতি পরিচালিত কুসংস্কার বিরোধী শিক্ষণ-শিবিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে।
আমাদের সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তরফ থেকে প্রতি মাসে অন্তত একটি করে কুসংস্কার-বিরোধী শিক্ষণ-শিবির পরিচালনা করা হয় গ্রামে-গঞ্জে, আধা-শহরে এবং শহরে। এ-ছাড়া সপ্তাহের মঙ্গল ও শনিবার কলকাতায় স্টাডি ক্লাস চলে। যাঁরা আগ্রহ নিয়ে শিক্ষণ-শিবিরে বা ক্লাসে নিজেকে যুক্তিবাদী আন্দোলনকর্মী হিসেবে তৈরি করার মানসিকতা নিয়ে আসেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই যে সাধারণ মানুষের চেয়ে যুক্তিতে কিছুটা এগিয়ে থাকবেন, কুসংস্কার থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত থাকবেন—এটা নিশ্চয় প্রত্যাশিত। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ এই ৫ বছরে এই এগিয়ে আসা মানুষদের মধ্যে থেকে ৩০০০ জনের কাছে একটি ছাপান মতামত-জ্ঞাপনপত্র হাজির করেছিলাম। একটু জানিয়ে রাখি, এঁদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ছিলেন। ছিলেন অধ্যাপক, শিক্ষক, ছাত্র, সাংস্কৃতিককর্মী, শ্রমিক, কৃষক, লেখক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ইত্যাদি। মতামত জ্ঞাপনপত্রের একটি প্রতিলিপি এখানে তুলে দিলাম:—
প্রশ্ন পড়ে ‘হ্যাঁ' বা 'না' উত্তর চিহ্ন দিতে হবে।
১। ঈশ্বরজাতীয় কারও অস্তিত্ব বাস্তবিকই আছে কি? হ্যাঁ/না।
২। ঈশ্বরজাতীয়রা কি কখন কখন মানুষের ওপর ভর করেন? হ্যাঁ/না।
৩। প্ল্যানচেটের সাহায্যে কি আত্মা আনা সম্ভব? হ্যাঁ/না।
৪। ভূত আছে কি? হ্যাঁ/না।
৫। ভূত কি কখনো কখনো মানুষের ওপর ভর করে? হ্যাঁ/না।
৬। আত্মা কি অমর? হ্যাঁ/না।
৭। কারো পক্ষে কি জাতিস্মর হওয়া সম্ভব? হ্যাঁ/না।
৮। তুকতাকের বাস্তব অস্তিত্ব আছে কি? হ্যাঁ/না।
৯। মন্ত্রে কি অলৌকিক কোনও কিছু ঘটানো সম্ভব? হ্যাঁ/না।
১০। অতীতের কোনও অবতারের অলৌকিকক্ষমতা ছিল কি? হ্যাঁ/না।
১১। বর্তমানের কেউ কেউ কি অলৌকিকক্ষমতার অধিকারী? হ্যাঁ/না।
১২। জ্যোতিষশাস্ত্রের সাহায্যে হাত দেখে বা জন্ম ছক দেখে কি কিছু কিছু ক্ষেত্রে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব? হ্যাঁ/না।
১৩। ‘ভাগ্য’ বলে কিছু আছে কি? হ্যাঁ/না।