১৪। গ্রহ-নক্ষত্ররা কি ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে? হ্যাঁ/না।
১৫। ঠিক গ্রহরত্ন পরলে কি ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব? হ্যাঁ/না।
১৬। ধাতু, শিকড় বা মাদুলি ধারণ করে কি ভাগ্য পাল্টান সম্ভব? হ্যাঁ/না।
১৭। তামা কি বাত কমাতে সাহায্য করে? হ্যাঁ/না।
১৮। মন্ত্রশক্তির সাহায্যে সাপের বিষ কি নামানো যায়? হ্যাঁ/না।
১৯। বাটি চালান, কঞ্চি চালান, নখদর্পণ বা চাল পড়া খাইয়ে কি চোর ধরা যায়? হ্যাঁ/না।
২০। ‘টেলিপ্যাথি’র অস্তিত্ব বাস্তবিক আছে কি? হ্যাঁ/না।
১২, ১৩, ১৪, ১৫ এবং ১৬ নম্বর প্রশ্নগুলো সরাসরি জ্যোতিষশাস্ত্র সংক্রান্ত। এই পাঁচাটি প্রশ্নের অন্তত একটিতে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন ২১৪৫ জন। অর্থাৎ শতকরা ৭১.৪০ জন।
যুক্তিবাদী আন্দোলন এগিয়ে আসা মানুষদের মধ্যে যদি শতকরা ৪৪ জন অদৃষ্টবাদে বিশ্বাসী হন এবং শরীরে ধাতুর প্রভাব বিষয়ে শতকরা ৭১ জন ভুল ধারণা পোষণ করে থাকেন, তবে সাধারণ মানুষদের ক্ষেত্রে অদৃষ্টবাদে বিশ্বাসী এবং শরীরে ধাতুর প্রভাব বিষয়ে বিশ্বাসীর সংখ্যা যে এর চেয়ে অনেক বেশি হবে, সেটা অনুমান করে নিতে পারি।
এবার একটু অনুসন্ধানের প্রসঙ্গে আসা যাক। আমাদের চালানো অনুসন্ধান থেকে দেখেছি বিজ্ঞানের শিক্ষক, বিজ্ঞানের অধ্যাপক, চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিভিন্ন পেশার অনেক মানুষও অদৃষ্টবাদের পক্ষে কোনও না কোনওভাবে মত প্রকাশ করেছিলেন। এমন বিজ্ঞান-বিরোধী অদৃষ্টবাদী চিন্তা ওইসব বিজ্ঞান পেশার মানুষদের কেন প্রভাবিত করল? ওঁরা তো শিক্ষার সুযোগ লাভে বঞ্চিত মানুষ নন? ওঁরা তো অনিশ্চিত পেশার সঙ্গেও যুক্ত নন? তবে?
এই ‘তবের’ একটিই উত্তর—পরিবেশই এইসব বিজ্ঞান পেশার মানুষদের অদৃষ্টবাদী করেছে।
সাধারণভাবে দারিদ্র্য, শিক্ষার সুযোগ না পাওয়ার অজ্ঞতা এবং অনিশ্চিত জীবনযাত্রার জন্য মূলত দায়ী আমাদের বর্তমান সমাজের প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থা অর্থাৎ আর্থসামাজিক পরিবেশ। অর্থ-স্বাচ্ছন্দের মধ্যে গড়ে ওঠা উচ্চশিক্ষিত মানুষরা যখন অন্ধ বিশ্বাস-কুসংস্কারের দাস হয়, তখন এমনতর ঘটনার জন্য অবশ্যই দায়ী ওইসব উচ্চশিক্ষিত মানুষদের পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব। মানুষের ওপর পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব বা পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সুদীর্ঘ আলোচনা যেহেতু দ্বিতীয় খণ্ডে করা হয়েছে, তাই এই খণ্ডে আবার সেই একই প্রসঙ্গ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা নিতান্তই প্রয়োজনহীন। তবে তৃতীয় খণ্ডেই যাঁরা ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ বইটির সঙ্গে প্রথম পরিচিত হলেন, তাঁদের বোঝার