সুবিধের জন্যে অতি সংক্ষেপে মানুষের ওপর পরিবেশের প্রভাব নিয়ে আলোচনা সেরে দিচ্ছি।
মানবজীবনে পরিবেশের প্রভাব
উন্নততর দেশগুলির মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মানবজীবনের ওপর দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে বর্তমানে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন—মানুষের বংশগতসূত্রে প্রাপ্ত অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত।
আমরা যে দু’পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াই, হাঁটি, পানীয় পশুর মত জিব দিয়ে গ্রহণ না করে পান করি, কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করি—এসবের কোনটাই জন্মগত নয়। এইসব অতি সাধারণ মানব-ধর্মগুলো আমরা অনুশীলন দ্বারা অর্জন করেছি। শিখিয়েছে আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোই, অর্থাৎ আমাদের সামাজিক পরিবেশ।
মানবশিশু মানুষের প্রজাতি হিসেবে পাওয়া জিনের প্রভাবে মানবধর্ম বিকশিত হওয়ার পরিপূর্ণ সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেয় মা-বাবা, ভাই বোন, আত্মীয়-বন্ধু, সহপাঠী, খেলার সঙ্গে, শিক্ষক, অধ্যাপক, প্রতিবেশী, পরিচিত ও আশেপাশের মানুষরা, অর্থাৎ আমাদের সামাজিক পরিবেশ।
আপনার-আমার পরিবারের কোনও শিশু সভ্যতার আলো
না দেখে আন্দামানের অধিবাসী জারোয়াদের মধ্যে
বেড়ে উঠলে তার আচার-আচরণে, মেধায়
জারোয়াদেরই গড় প্রতিফলন
দেখতে পাব।
আবার একটি জারোয়া শিশুকে শিশুকাল থেকে আমাদের সামাজিক পরিবেশ মানুষ করলে দেখতে পাব শিশুটি বড় হয়ে আমাদের সমাজের আর দশটা ছেলে-মেয়ের গড় বিদ্যে বুদ্ধি ও মেধার পরিচয় দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বর্তমানে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, বিগত বহু বছরের মধ্যে মানুষের শারীবৃত্তীয় কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এই কম্পিউটর যুগের আধুনিক সমাজের মানবশিশুর সঙ্গে বিশ হাজার বছর আগের ভাষাহীন, কাঁচামাংসভোজী সমাজের মানবশিশুর মধ্যে জিনগত বিশেষ কোনও পার্থক্য ছিল না।
সেই আদিম যুগের শিশুকে এ যুগের অতি উন্নততর
বিজ্ঞানে অগ্রবর্তী কোনও সমাজের গড়
মানুষদের মতোই বিদ্যে-বুদ্ধির
ধিকারী হত।