একই সঙ্গে বিজ্ঞান এ-কথাও অবশ্যই স্বীকার করে, কোনও অনুকূল পরিবেশে শিশুকাল থেকে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকান দেশের নিরন্ন, হতদরিদ্র মূর্খ মানুষগুলোও হতে পারত ইউরোপ, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র বা জাপানের উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যার মধ্যে গড়ে ওঠা মানুষগুলোর সমকক্ষ। অবশ্য ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের জন্য স্বাতন্ত্র্য নিশ্চয়ই থাকতো যেমনটি এখনও আছে।
কিন্তু এই কথার অর্থ এই নয় যে বংশগতি সূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যকে পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত করা যায়। আর তাই মানুষের পরিবর্তে একটি বনমানুষ বা শিম্পাঞ্জিকে শিশুকাল থেকে আমাদের সামাজিক পরিবেশে বড় করলেও এবং আমাদের পরিবারের শিশুর মতোই লেখাপড়া শেখাবার সর্বাত্মক চেষ্টা চালালেও তাকে আমাদের সমাজের স্বাভাবিক শিশুদের বিদ্যে, বুদ্ধি, মেধার অধিকারী করতে পারব না। কারণ ওই
বনমানুষ বা শিম্পাঞ্জির ভেতর বংশগতির ধারায় বংশক্রমিক
গুণ না থাকায় তা অনুকূল পরিবেশ পেলেও
বিকশিত হওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়।
এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার সূত্র থেকে আরা দুটি সিদ্ধান্তের কথা জানতে পারলাম, এক, মানবগুণ-বিকাশে জিনের প্রভাব বিদ্যমান। দুই, মানুষের জিনের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত।
পরিবেশকে আমরা অবশ্য দু’ভাগে ভাগ করতে পারি। এক, প্রাকৃতিক পরিবেশ। দুই, সামাজিক পরিবেশ।
সামাজিক পরিবেশকে আবার দু-ভাগে ভাগ করা যায়। এক, আর্থ-সামাজিক (Socio-economic) এবং দুই, সমাজ-সাংস্কৃতিক (Socio-culture)।
প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব
প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব আমাদের বিভিন্ন শারীরিক বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। আমরা যে অঞ্চলে বাস করি তার উচ্চতা, তাপাঙ্ক, বৃষ্টিপাত, নদী, সমুদ্র, পাহাড় বা মরুভূমি ইত্যাদির প্রভাব কম-বেশি পড়েই থাকে।
সমুদ্রকূলের মানুষেরা নৌ-চালনা, মাছ-ধরা, মুক্তোর চাষ, সমুদ্র থেকে আহরণ করা নানা জিনিস ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত থাকে। সমুদ্র ছেঁকে এ-সব তুলে আনতে যে শ্রম ও ঝুঁকির মুখোমুখি হয় তাই মানুষগুলোকে সাহসী করে তোলে। পলিতে গড়া জমির কৃষকদের চেয়ে রুখো জমির কৃষকেরা বেশ পরিশ্রমী। গ্রীষ্মপ্রধান আর্দ্র অঞ্চলের মানুষদের পরিশ্রম করার ক্ষমতা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের পরিশ্রম করার ক্ষমতা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মানুষদের তুলনায় কম।