বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৯
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]
৭৯

ধরা যায় না। আরব দেশগুলোর খনিজ তেল বেচে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ এতটাই ধনী যে, দেশের মাথাপিছু আয় অত্যন্ত বেশি। অথচ সাধারণ মানুষের প্রকৃত অবস্থা কী—মাথাপিছু আয় থেকে তার কোনও চিত্র-ই পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষদের প্রকৃত অবস্থা জানতে তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রেই সর্বনিম্ন সর্বোচ্চ মান নির্ধারিত থাকে। তিনটি বিষয় নিয়েই প্রত্যেকটি প্রদেশের উপর গভীর অনুসন্ধান চালানো হয়। স্বাস্থ্য বলতে যেমন—শিশুমৃত্যুর হার, গড় আয়ু, চিকিৎসার সুযোগ কতটা পাওয়া যায়, নারীরা চিকিৎসার কতটুকু সুযোগ পান ইত্যাদি। শিক্ষার বেলায় দেখা হয় অক্ষরজ্ঞান, স্কুলে ভর্তি হয় কতজন, স্কুল-ছুট হয়ে পড়ে কতজন, শিক্ষাক্ষেত্রে নারী-পুরুষে বৈষম্য-সংস্কার ইত্যাদি। আর্থিক অবস্থা বিচারের ক্ষেত্রে দেখা হয় দারিদ্র্যসীমার নীচের মানুষদের অবস্থা শহরবাসী ও গ্রামবাসীদের মধ্যে আয়ের বৈষম্যের পরিমাণ ইত্যাদি বহুতর বিষয়।

 রাষ্ট্রপুঞ্জের এ-বছরের মানব উন্নয়ন রিপোর্টের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরছি, যা একজন সচেতন দেশবাসীর জেনে রাখা উচিত।

  • রাষ্ট্রসংঘের ১৭৭টি সদস্য দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১২৭ নম্বরে। গত বছরেও ভারতের অবস্থান ছিল ১২৭ নম্বরে। * প্রতি ১১ জনের মধ্যে ১ জন শিশু ৫ বছর বয়সের মধ্যে মারা যায়। * প্রতি ৪ জন বালিকার মধ্যে ১ জন প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়নি। প্রতি ১০ জন বালকের মধ্যে ১ জনের বেশি প্রাইমারি স্কুলের মুখ দেখেনি। * পৃথিবীর ৫ জন শিশু পরিবারে পালিত হয়। শতকরা ৫৮ জন শিশু ভিক্ষা করে, শিশু শ্রমিক হিসেবে, অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অথবা দেহ বিক্রি করে বেঁচে আছে। * ভারতের শিশুদের তুলনায় বাংলাদেশের শিশুদের মানসিক বিকাশ-ধারা অনেক উন্নত। * একজন ভারতীয়ের গড় আয়ু আমেরিকানদের তুলনায় ১৪ বছর কম। * ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যে হারে এ দেশের মানবোন্নয়ন হয়েছে সেই হারে উন্নয়ন বজায় রাখলে ১০০ বছর লাগবে বর্তমানের উচ্চ মানবোন্নয়ন দেশগুলোর পর্যায়ে পৌঁছতে। * এ দেশের শতকরা ২৭ ভাগ গ্রামের মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করছে। পশ্চিমবঙ্গে এই হার শতকরা ৩০ ভাগ। * এদেশের শতকরা ৭৩ ভাগ গ্রামের মানুষ গরিব। পশ্চিমবঙ্গে এই হার শতকরা ৭৭ ভাগ। * চরম দারিদ্র্যে ভোগা রাজ্যগুলোর তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের স্থান অত্যন্ত উঁচুতে। তিন দশক বামফ্রণ্ট সরকার রাজত্ব করার পরও এই রাজ্য দরিদ্রতম প্রদেশগুলোর অন্যতম। * স্বাধীনতার পরের ২৫ বছরে শহরবাসীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের বৈষম্য প্রকট