থেকে প্রকটতর হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমল থেকেই শহর ও গ্রামের বৈষম্য এই বাংলায় প্রকট ছিল। বর্তমানে এই বৈষম্য বেড়েছে বই কমেনি।
- রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের অনাহারে থাকা আমলাশোল গ্রামের-ই প্রতিচ্ছবি উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা-বাগানে। অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। * পশ্চিমবঙ্গ বিষয়ে এই রিপোর্টের অংশ তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ প্রয়াসে।
মানবোন্নয়নের এই ভয়াবহ চিত্র ধরার উদ্দেশ্য দেশের বাস্তব অবস্থার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এই রিপোর্টেই বলা হয়েছে—ভারত সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে যে দাবি করে তা সত্যের চেয়ে অনেক দূরে।
গণতন্ত্রের অন্যতম আবশ্যিক শর্ত হল—সরকার কাজ করবে জনগণের জন্য। ‘জনগণের জন্য’ শব্দের অর্থ, অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জন্য। পশ্চিমবাংলায় গ্রামে বাস করেন ৭২ শতাংশ লোক—এটাও তাদের মনে রাখতে হবে। সচ্চিদানন্দ দত্তরায়, প্রাক্তন অধিকর্তা, পশ্চিমবঙ্গ ফলিত অর্থনীতি ও পরিসংখ্যানে ব্যুরো। তাঁর লিখিত বক্তব্য (আনন্দবাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৫) থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিষয়ে একটা পরিষ্কার চিত্র উঠে আসে যে, সরকার জনগণের জন্য কতটা করেছে। শ্রীদত্তরায় জানাচ্ছেন, “পশ্চিমবঙ্গে গ্রামে বাস করেন ৭২ শতাংশ লোক। কিন্তু আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁদের প্রাপ্তি মাত্র ২০ শতাংশ।” একই শ্রীদত্তরায় ২০ ডিসেম্বর ২০০৫-এর আনন্দবাজার পত্রিকায় বলেছেন, গ্রাম বাংলায় এখনও ৭৭% গরিব। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে গ্রামে গরিবের সংখ্যা ৭৩% (গ্রাম ও শহরের মানুষদের মধ্যে কী ভয়ংকর অসাম্য! ভাবা যায়?)।
২২ সেপ্টেম্বর ২০০৫-এর আনন্দবাজার থেকে অর্থনীতিবিদ শ্রীদত্তরায়ের আরও কিছু বক্তব্য তুলে দিচ্ছি। খাদ্য-স্বাস্থ্য-শিক্ষা বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কতটা করেছেন? শ্রীদত্তরায় জানাচ্ছেন, “দরিদ্র বিচারে প্ল্যানিং কমিশন যে মাপকাঠি ব্যবহার করেন, তাতে গ্রামদেশে মাথাপিছু দৈনিক ২৪০০ ক্যালরিযুক্ত খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃতি। এই নিরিখে ১৯৭৩-৭৪-এ পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে ৭৩ শতাংশ অধিবাসী দারিদ্রপীড়িত ছিলেন বলে কমিশনের হিসাব।” ১৯৮৩-র সমীক্ষা অনুসারে ৭৭ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গবাসী দারিদ্রপীড়িত ছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ সালে এই হার অপরিবর্তিত। ২০০৫ সালেও তা-ই শ্রীদত্তরায়ের প্রশ্ন, তবে কি ভূমিসংস্কার মধ্যপথে পরিত্যক্ত?
২০০৫-এর মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল জানাল, পশ্চিমবাংলায় এখনও সাড়ে চার হাজার গ্রাম আছে, যেগুলো অতি দরিদ্র। সে কারণেই মাওবাদীরা ওসব গ্রামে প্রভাব ফেলতে পারছে। স্বাধীনতার ৫৮ বছর