বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/৯২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৬
অলৌকিক নয়, লৌকিক [তৃতীয় খণ্ড]

ভয় হয়, কেউ জুতোর মালা পরাতে চাইলে প্রার্থীর হৃদয় রাখতে টপ্ করে না জুতোর মালাই গলায় গলিয়ে ফেলেন। কেউ কেউ আবার এই যুক্তি দেন—“বলল, তাই পরে ফেললাম। দেখি না, যদি কাজ হয় ভাল, না হলেও ক্ষতি তো নেই।” এই স্বচ্ছতাহীন দ্বিধাগ্রস্ত মানুষগুলো এটা বোঝে না যে, এতেও ক্ষতি হয়। প্রথমেই অর্থ ক্ষতি তো অবশ্যই। তারপর যে ক্ষতি তা সমাজের ক্ষতি। মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব তাই এই দ্বিধাগ্রস্ততা, অস্বচ্ছতা যা অদৃষ্টবাদকে সমর্থনেরই নামান্তর, তা প্রভাবিত করবে তাঁরই পরিবারের শিশুটিকে, আশেপাশের মানুষজনকে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশ পাল্টানো যায়

 সাংস্কৃতিক পরিবেশ পাল্টাতে হলে আমজনতার চেতনাকে পাল্টাতে হবে। তাদের চেতনাকে উন্নত করতে হবে। চেতনাকে তারাই উন্নত করতে পারে, যাদের চেতনা উন্নত নিজে মুক্তমনের অধিকারী যুক্তিমনস্ক মানুষ না হলে সাধারণকে এমন আদর্শে প্রাণিত করা যায় না।

 সাংস্কৃতিক পরিবেশকে পাল্টাবার দায়িত্ব ‘প্রগতিবাদী’ বলে দাবি করা রাজনৈতিক দলগুলো নেবে—এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ওরা আমজনতার চেতনা-স্তরে নামিয়ে আনতে সক্রিয় থেকেছে। শনি-শীতলার পুজো থেকে দুর্গা-কালী পুজো, সব হুজুগেই ওরা শামিল। ওরা পৈতেতে আছে, শ্রাদ্ধে আছে। এদের পার্টিবাজি সাধারণের মধ্যে ভয়, অবিশ্বাস ও ঘৃণা তৈরি করেছে। ফলে আজ ‘রাজনীতি’ শব্দটি ‘দুর্নীতি’র সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয় দেখিয়ে নির্বাচন জেতা যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের সাংস্কৃতিক চেতনা পাল্টানো যায় না। সমাজ-সাংস্কৃতিক পরিবেশ পাল্টানো যায় না।

 এই বঙ্গের সবচেয়ে বড় ও ক্ষমতাবান রাজনৈতিক দলের সবাই কিন্তু এখনও পচে যায়নি। সাম্যের সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখা কিছু ক্যাডার-লিডার যে ও দলে আছে—জানি। ওঁরা ছাত্র-রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে অনেক বড় মাপের কাজ হয়। ছাত্র-ইউনিয়ন দাবি তুলুক—“তাগা-তাবিজ, রত্ন উপবীতধারী অধ্যাপকের বিজ্ঞান ক্লাস নেওয়ার কোনও অধিকার নেই, কুসংস্কারে ডুবে থাকব। বিজ্ঞান-বিরোধিতা করব, আবার বিজ্ঞান ক্লাস নেব—এই দ্বিচারিতা চলধে না।” এইসব দ্বিচারী অধ্যাপকদের ক্লাস বয়কট করা শুরু করুক ছাত্ররা।

 মার্ক্সবাদী পার্টির ভিতর থেকেই দাবি উঠুক—একই সঙ্গে মার্ক্সবাদী পার্টির নেতা হব, আবার কুসংস্কারে, জাত-পাতে বিশ্বাস রাখব, এ চলতে দেওয়া হবে না।

 দল থেকে আবর্জনা ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে না পারলে ভণ্ডামির দায়ে মানুষের গভীর অবিশ্বাস ও ঘৃণা ছাড়া কিছুই পাওয়া যাবে না।