বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১০১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পত্র পত্রিকার খবরে ভূত
৯৭

পুলিশের অনুমতি মিলল। দ্রুত পুজোর আয়োজন করা হল। অঘোর তান্ত্রিক যজ্ঞ শুরু করতেই দেবেন মেয়ের গলায় চিৎকার করতে লাগল, “আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে মেরো না।” শেষ পর্যন্ত জানা গেল শাকিলা নামের একটি মেয়ে ’৮৫-র ৮ জানুয়ারি আত্মহত্যা করেছিল। তারই আত্মা এইসব কাণ্ড ঘটিয়েছিল। একসময় মৃত অনুরাধা সবাইকে আশ্চর্য করে উঠে বসল।

 অনুরাধাকে মৃত ঘোষণা করা ডাক্তার অবাক বিস্ময়ে দেখলেন, অলৌকিক আজও ঘটে। মন্ত্রশক্তিতে মৃতকেও বাঁচানো যায়।

 কাহিনির শেষে লেখা রয়েছে: ‘এ এক অবিশ্বাস্য কাহিনি হলেও সত্য।’ কাহিনির শুরুতেই লেখা ছিল ‘পুলিশ ফাইল থেকে’, অর্থাৎ, পুলিশ ফাইল থেকেই এইসব তথ্য সংগৃহীত হয়েছে।

 লেখাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল যে, বেশ কিছু চিঠি এই প্রসঙ্গে আমি পেয়েছিলাম। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পত্র লেখক-লেখিকারা জানতে চেয়েছিলেন আমি এই ‘সত্য ঘটনা’কে স্বীকার করি কি না এবং সেই সঙ্গে স্বীকার করি কি না ভূতের অস্তিত্বকে। যুক্তিবাদী বিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেও লেখাটি পড়ে, বিভ্রান্ত হয়ে এই বিষয়ে আমার মতামত ও ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন। যুক্তিবাদীদের মনেও বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ার কারণ: ১। পত্রিকাটির সম্পাদক পরিচিত বিজ্ঞান পেশার মানুষ। ২। ঘটনাটি পুলিশ ফাইল থেকেই নেওয়া বলে ঘোষণায় জানানো হয়েছে। ৩। কাহিনির শেষাংশে বলা হয়েছে—‘ঘটনাটি অবিশ্বাস্য কাহিনি হলেও সত্যি।’ ৪। ঘটনার প্রধান চরিত্র দেবেন এবং অনুরাধার ফটোও ছাপা হয়েছে।

 ভূতে পাওয়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই হয় মানসিক রোগ, নয় তো অভিনয়। মস্তিষ্ক-কোষ থেকেই আমাদের চিন্তার উৎপত্তি। একনাগাড়ে ভূতের কথা ভাবতে ভাবতে অথবা কোনও বিশেষ মুহূর্তে ভূতে ভর করেছে ভেবে কোনও কোনও আবেগপ্রবণ মানুষের মস্তিষ্ক-কোষে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, যাকে চলতি কথায় বলতে পারি মাথার গোলমাল। এই সময় মানসিক রোগী ‘তার উপর ভূতে ভর করেছে’ এই একান্ত বিশ্বাসে অদ্ভুত সব ব্যবহার করে। ভূতে পাওয়া যদি মানসিক রোগ না হয় তবে অবশ্যই ধরে নেওয়া যায় রোগী বা রোগিণী ভূতে পাওয়ার অভিনয় করছে। এখানে অনীশ দেবের পত্রিকায় লেখক অমরজ্যোতি মুখোপাধ্যায়ের ‘সত্যি কাহিনি’টিতে এমন অনেক কিছু ঘটেছে,অলৌকিক নয় লৌকিক/২য়—৭