বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পত্র পত্রিকার খবরে ভূত
৯৯

স্টেশনে কাজ করতেন কি না? ৩। জুন ১৯৮৫-তে এই ধরনের কোনও ঘটনা থানার ডায়েরিতে বা অন্য কোনও নথিতে আছে কি না?

 ৯ জুন আমাকে লেখা এক চিঠিতে থানার অফিসার ইন-চার্জ স্পষ্ট ভাষায় যা জানালেন, তার সংক্ষেপ-সার-১। কাশীপুর পুলিশ স্টেশনের অধীনে এমন কোনও ঠিকানা নেই। ২। ১৯৮৫ সালে পঙ্কজকুমার লাহা নামের কোনও সাব-ইন্সপেক্টর ছিলেন না। ৩। এই ঘটনার কোনও তথ্য আমাদের পুলিশ স্টেশনের নথিতে নেই।

 আমি বিস্মিত হলাম। কী চূড়ান্ত মিথ্যেকে সত্যি বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন সম্পাদক ও লেখক। এর পরও কি আমার দেখা উচিত, সম্পাদকের ও লেখকের তাঁদের বক্তব্যের সমর্থনে কিছু বলার আছে কি না? একাধিক দিন আমি এবং ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির একাধিক সদস্য সম্পাদক অনীশ দেবের বাড়ি গিয়েছি। ওই বাড়িই পুলিশ ফাইল পত্রিকার অফিস। কোনও দিনই অনীশ দেবের দেখা পাইনি। আমাদের আসার উদ্দেশ্য প্রতিবারই অফিসের জনৈক কর্মীকে জানা হয়েছে। জানিয়েছিলাম, দেবেন-অনুরাধার ‘সত্যি কাহিনি’র ওপর আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং কাশীপুর থানার লিখিত উত্তর বলছে লেখাটির সঙ্গে বাস্তব সত্যের কোনও সম্পর্ক নেই। এটা স্রেফ গল্পকথা। এই বিষয়ে অনীশবাবুর কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনও প্রমাণ থাকলে তিনি প্রমাণসহ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বাধিত হব।

 অনীশ দেব আমার সঙ্গে দেখা করেননি। পরিবর্তে ১৮ জুন তারিখে লেখা তাঁর একটি পোস্ট কার্ড পাই। তাতে শুরুতে লেখা, ‘আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি বলে দুঃখিত।’ মাঝখানে এক জায়গায় লেখা, ‘আমার লেখাটি গল্পকথা হিসেবেই প্রকাশ করেছি।’ শেষ অংশে লেখা, ‘পুলিশ ফাইল’ আপাতত আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। ফলে আগামী সংখ্যাতে যে কোনও ত্রুটি স্বীকার করব সে সুযোগও নেই। সুতরাং এজন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। আপনার পরিচালনায় যুক্তিবাদী আন্দোলনের সাফল্য কামনা করে শেষ করছি।’

 চিঠিটা অনীশ দেবের ডিগবাজির সাক্ষ্য হিসেবে সযত্বে রেখে দিয়েছি। এর পরেও অনীশবাবুর কাছে কয়েকটি জিজ্ঞাসা আমার থেকেই গেল। অনীশবাবু, সত্যিই কি ‘গল্পকথা’ হিসেবেই লেখাটি প্রকাশ করেছিলেন? তবে আবার ‘সত্যি কাহিনি’ প্রমাণের জন্য ভূরি ভূরি বাক্যি খরচ করলেন কেন? কেনই বা কাল্পনিক দুটি চরিত্রের ফটোগ্রাফ প্রকাশ করলেন? ফটোগ্রাফ দুটি