তাই কেউই বিশেষ আমল দেননি। পরদিন নতুন একটি বাল্ব কিনে লাগানো হয়। সেদিন রাতেও কিছুক্ষণ জ্বলার পর হঠাৎই একই রকমভাবে বিস্ফোরিত হয়ে বাল্বটি ভেঙে গেল। পরপর দুদিন একই ঘটনা ঘটতে দেখে পরদিন ভদ্রলোক একজন স্থানীয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে ডাকলেন। ঘরে ডি সি বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। মিস্ত্রীর পরামর্শে সুইচ বক্স পালটানো হল কারণ বক্সটি নাকি আলগা হয়ে গেছে এবং সেকারণেই যত বিপত্তি। বক্স পালটানোর পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলতেই লাগল। অর্থাৎ দুটো-তিনটি করে ছোট বাল্ব প্রতিদিন ফেটে যায়। এভাবে দিন দশেকের মধ্যে প্রায় কুড়িটি বাল্ব ভেঙে যাওয়ার পর তিনি বাল্ব লাগানোই বন্ধ করে দিলেন। এবারে আক্রমণ শুরু হল টিউব লাইটের ওপর। পর পর তিনটি টিউবলাইট ভেঙে যাওয়ার পর ডি সি লাইনের একজন দক্ষ মিস্ত্রিকে ডেকে আনা হয়। তাঁর পরামর্শে টিউবের চোক বদলানো হয়। কিন্তু অবস্থার কোন পরিবর্তন হল না। এর মধ্যে পাড়ার কিছু লোকজন ভুতুড়ে বাড়ি বলে বাড়িটিকে চিহ্নিত করে ফেলতে শুরু করলেন এবং তাঁদের ও বাড়িওয়ালার চাপে ভদ্রলোক জনৈক ওঝাকে বাড়িতে ঢুকতে দিতে বাধ্য হন। ওঝা প্রচুর মন্ত্র পড়ে কিছু লেবু ও লঙ্কা ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ঝুলিয়ে দিয়ে যান। কিন্তু ঘটনা থেমে থাকল না। বরং পরবর্তী ঘটনাগুলি বিচার করলে বলা যায় যে ওঝারে মন্ত্র পড়ার পর তাণ্ডব আরও বৃদ্ধি পেল। এরপর একদিন লোডশেডিং চলাকালীন বাড়িতে ডিমলাইট বা কেরোসিনের বাতি জ্বলছিল। হঠাৎ চিমনীর কাঁচটি শব্দ করে ফেটে গেল। দেওয়ালের একটি ছোট বুক-শেলফ্ শক্ত করে লাগানো ছিল। শেলফ্টিতে দুটি কাচের ঢাকনা ছিল। হঠাৎ একদিন দুপুরবেলায় দুটি কাচের ঢাকনাই কিছু সময়ের ব্যবধানে ভেঙে গেল। ঘরের মেঝেতে একটি কাচের কাপ-ডিস বোঝাই ছোট আলমারি ছিল। একদিন রাত্রিবেলা গোটা আলমারিটা আছাড় খেয়ে পড়ে গেল এবং তার ভেতরের সমস্ত কাচের জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। কাচের উপর এই অদৃশ্য শক্তির আক্রমণ ইদানীং চরম আকার ধারণ করেছে। সেই ঘরে তিনটি বড় আলমারি আছে। দুটি কাচবিহীন। একটিতে কাচের আয়না ছিল। গোটা আলমারিই জিনিসপত্রে ঠাসা। এই ভারি আলমারিতে হঠাৎ একদিন দুপুরবেলায় দেখা গেল আলমারির কাচে, ভেতরদিক থেকে গোল হয়ে একটি গর্ত হয়ে গেল এবং কাচ গুঁড়ো হয়ে পড়তে শুরু করল। এর কিছুক্ষণ পরে গোটা আলমারি মাটি থেকে উঠে উলটে পড়ে গেল। কাচের আয়নাটির উপরদিকটি ভেঙে গেল। যাই হোক আলমারিটিকে যথাস্থানে আবার বসানো হল। এরপর
পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১০৭
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পত্র পত্রিকার খবরে ভূত
১০৩