দিলে বাল্ব ফাটবে। (৩) আঘাত করে বাল্ব ফাটানো সম্ভব। তবে ওভার-ভোল্টেজে বা অনেকক্ষণ ধরে জ্বলে থাকা নিয়নে ঠাণ্ডা জল ছিটোলে নিয়ন ফাটবে না।
কাচগুলো কেমনভাবে ভাঙছে, এটা বোঝার জন্য ভাঙা কাচের টুকরোগুলো পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কাচ ভেঙে যাওয়ার আগে-পরে কাচগুলো যাঁরা দেখেছেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলাও একইভাবে প্রয়োজনীয়।
অমিয়শংকরবাবু দমদম স্টেশনের লাগোয়া কালীকৃষ্ণ শেঠ লেনের ৯১/৬ নম্বর বাড়ির দোতলার একটি ঘর নিয়ে থাকেন। ঘরে ঢুকতে গিয়ে দেখলাম দরজার ওপরে তথাকথিত ‘লাকি নাম্বার’ ৭৮৬ লেখা। আনুমানিক ১০ ফুট বাই ৮ ফুট ঘরের মধ্যেই অমিয়বাবুর পুরো সংসার।
অমিয়বাবু সকালেই খবর পেয়েছিলেন সন্ধ্যায় যাব। পরিচয় দিতেই আপ্যায়িত করলেন। অমিয়বাবু দক্ষিণ দমদম পুরসভার হিসেবরক্ষকের চাকরি করেন। স্ত্রী তৃপ্তি রায় দমদমের প্রাচ্য বাণীমন্দির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ান। ছেলে সৌম্য দমদমের কে.কে. হিন্দু অ্যাকাডেমির ছাত্র, এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। অমিয়বাবু সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। সিপিআই(এম)-এর স্থানীয় কমিটির সদস্য। তৃপ্তি দেবীর হাতে গ্রহরত্নের আংটি। দেখলেই বোঝা যায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার করছেন। ছেলে সৌম্য বাড়ি ছিল না। শুনলাম, পড়াশুনোর অসুবিধে হচ্ছিল বলে তাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা হয়েছে কাল বিকেল থেকে।
অমিয়বাবুর বাড়ির অবস্থান দেখে নিশ্চিত ছিলাম— কাচ ভাঙার ক্ষেত্রে শব্দতরঙ্গের কোনও ভূমিকা নেই। অনেক সময় বিমানবন্দরের খুব কাছের বাড়ির কাচের শার্সি বা জিনিস-পত্তর ভাঙে বিমানের তীব্র শব্দ-তরঙ্গের আঘাতে। অমিয়শংকরবাবুর এই ঘরটি বিমানবন্দরের কাছে নয়। বিমানের শব্দ এখানে বাসের শব্দের চেয়েও মৃদু। কাছেই রেললাইন। কিন্তু ট্রেনের শব্দে ঘর কাঁপে না, কাঁপে না সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর দাঁড় করিয়ে দেওয়া পাতলা কাচের শিশি—পরীক্ষা করে দেখেছি। বাড়ির ধারে-কাছে কোনও কারখানা নেই, যেখান থেকে তীব্র শব্দতরঙ্গ তৈরি হতে পারে। অতএব শব্দতরঙ্গকে ভাঙার কারণ হিসেবে বাদ দিতেই হয়।
রাসায়নিক পদার্থ যেমন হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড কাচে দিলে কিছু সময় পরে কাচ ফাটতে পারে। এ-ক্ষেত্রে অ্যাসিড প্রয়োগের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটি মানুষের উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন।
অমিয়শংকরবাবুর ঘরের বাল্বের কাচ ওভার-ভোল্টেজের দরুন ভাঙতে