বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১১১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পত্র পত্রিকার খবরে ভূত
১০৭

পারে। কিন্তু ৭১ বার ওভার ভোল্টেজে ভাঙা সম্ভব নয়। কারণ ইতিমধ্যে বহুবার মাপা হয়েছে। বহু বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি, সংস্থা ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ভোল্টেজের বিষয়ে পরীক্ষা করেছেন। লাইন-লিকেজ কি না, সে বিষয়েও পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ভোল্টেজে কোনও অস্বাভাবিকতা বা লাইনে কোনও লিকেজ পাওয়া যায়নি। গোটা ঘরের ওয়্যারিং করা হয়েছে নতুন করে। ভোল্টেজ পরীক্ষা করে দেখেছি, ১৭৫। অতএব অমিয়বাবুর ঘরের ওয়্যারিং নতুন করার পরও কাচের বাল্ব ফাটার জন্য বাড়তি ভোল্টেজকে আদৌ দায়ী করা চলে না। কিন্তু অমিয়বাবুর দাবি মতো নতুন ওয়্যারিং-এর পরও বাল্ব ফেটেছে। আরও একটা তথ্য অমিয়বাবু জানালেন, এই ঘরের লাইন থেকে তার টেনে বাইরের বারান্দায় বাল্ব জ্বালালে তা ভাঙছে না। বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটিতে বাল্ব ফাটলে সেই ত্রুটিপূর্ণ লাইন থেকে টানা বাইরের বাল্বও ফাটবে। একই লাইন থেকে টানা সত্ত্বেও ঘরের বাল্ব কাটছে, বাইরের বাল্ব নয়, এমনটা হতে পারে বাল্ব ফাটানোর পিছনে মানুষের হাত থাকলে। ঘর স্যাঁতসেঁতে বা দূষিত গ্যাসে পূর্ণ নয়। যথেষ্ট খোলামেলা।

 বিদ্যুতের গোলমালে বাল্ব ফাটতে পারে, কিন্তু বুক-কেস, আলমারির কাচ বিদ্যুতের গোলমালে ফাটার কোনও সম্ভাবনা নেই। চিমনি, আয়না এবং অন্যান্য কাচের জিনিস ফাটার ক্ষেত্রেও বিদ্যুতের ত্রুটিকে কোনওভাবেই দায়ী করা যায় না। কাঠের আলমারি নাকি আপনা থেকেই চারবার পড়ে গেছে। সিলিং ফ্যান আপনা থেকে দুলছে। ঘরে তখন কোনও জোরালো হাওয়া ছিল না। ফ্যানও ঘুরছিল না। বিদ্যুতের গোলমালে এমন কিছু ঘটা সম্ভব ছিল না। কাঠের আলমারিতে ভারসাম্যের কোনও অভাব ছিল না। পরীক্ষা করে দেখেছি। আরও লক্ষণীয়, ঘরে একটি বড় স্টিলের আলমারি ছিল। স্টিলের আলমারি কিন্তু একবারও পড়েনি। কারণ একজনের পক্ষে স্টিলের আলমারি ঠেলে ফেলে দেওয়া খুবই কঠিন কাজ। ছোট কাঠের আলমারি ফেলা যথেষ্ট সহজসাধ্য। ফ্যান দোলাতে, আলমারি ফেলতে একান্তভাবে প্রয়োজন মানুষের যে ফ্যান দোলাবে, আলমারি ফেলে দেবে।

 আলমারির কাচ ভেঙেছে অদ্ভুতভাবে। একদিকের পাল্লা কাঠের। অন্য দিকের পাল্লায় ওপরে-নিচে দুটি কাচ। হঠাৎ একদিন বাড়ির লোকদের চোখে পড়ল, ওপরের কাচে একটা বৃত্তাকার দাগ। দাগের আশেপাশে কয়েকটা আঁচড়। তারপর হঠাৎ একদিন দেখা গেল ওপরের কাচটা ভেঙে পড়েছে। দু-একদিন পরেই ভাঙল নিচের কাচটা। এ-কথাগুলো অমিয়বাবু ও তৃপ্তি দেবীর কাছ থেকেই শোনা।