ছবি এঁকে কে কেমনভাবে নজর রাখবেন, তা বুঝিয়েছি। নজরদারদের কেউ কিছু সময়ের জন্য বাইরে গেলে পরিবর্ত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য কয়েকজনকে ‘রিজার্ভ’ রেখেছি। বাইরে দর্শকদের মধ্যে মিশে থাকা সমিতির সদস্যদের পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শশাংক মণ্ডলকে। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সমিতির পক্ষ থেকে কাছ ভাঙার রহস্যের আবরণ সরালাম। বললাম কাচ ভাঙে কী কী কারণে। জানালাম, এ ঘরের কাচ শব্দ-তরঙ্গে ভাঙছিল না। এমন সিদ্ধান্তে আসার পক্ষে যুক্তিগুলো হাজির করলাম। ওভার-ভোল্টেজে ঘরের যে কোনও কাচের জিনিস ভাঙা, আলমারি বারবার উলেট দেওয়া, চালু না হওয়া সিলিং ফ্যান দোল খাওয়ানো অসম্ভব। ওভার-ভোল্টেজের দরুন কাচের বাল্ব প্রথম দু-একবার ভাঙলেও ভাঙতে পারে। কিন্তু প্রতিটি বাল্ব ও টিউবলাইট যে ওভার-ভোল্টেজে ভাঙছিল না, একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ভোল্টেজ পরীক্ষা করা হয়েছে, লাইন পাল্টানো হয়েছে। অথচ লাইন পাল্টানোর পরও বাল্ব ও নিয়ন ফেটেছে। অথচ লক্ষ্য করুন, এই একই লাইন থেকে তার টেনে বাল্ব বাইরে সবার চোখের সামনে রাখলে ও জ্বালালে ফাটছে না। বিদ্যুৎ লাইনে গোলমাল থাকলে, এক্ষেত্রে বাইরের বাল্ব ও ফাটত।
তীব্র শব্দের প্রভাবে কাচ ভাঙার সম্ভাবনা এখানে শূন্য। আশে-পাশে কল-কারখানা রেল ও বিমানের এমন কোনও তীব্র শব্দ সৃষ্টি হয় না, যার দরুন কাচ ভাঙতে পারে। রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যে কাচ ভাঙা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু আপনারা ভাঙা কাচের টুকরোগুলো একটু লক্ষ্য করুন।
‘বর্তমান’ পত্রিকার বার্তা-সম্পাদক রূপকুমার বসুর হাত থেকে তাঁর সংগৃহীত দুটুকরো কাচ নিয়ে সাংবাদিকদের দেখালাম। কাচগুলো দেখলেই বোঝা যায় এই কাচগুলো ভাঙার আগে কিছু দিয়ে অনেকটা কেটে রাখা হয়েছিল। বাকিটা ভেঙেছে আঘাতে, চলটা ওঠা দেখলেই বোঝা যায়। এই যে টুকরোগুলো দেখলাম, এগুলো কাঠের আলমারির ভাঙা কাচের টুকরো। আলমারির কাচ ভেঙেছে একটু অদ্ভুতভাবে। আলমারির এক দিকের পাল্লায় ওপরে-নিচে কাচ লাগানো দেখতে পাচ্ছেন। হঠাৎ একদিন দেখা গেল ওপরের কাচে একটা স্পষ্ট গোল দাগ কাটা, তার আশে-পাশে কয়েকটা আঁচড়। তারপর একদিন তলার কাচেও একই ধরনের দাগ দেখা গেল। একদিন দেখা গেল ওপরের গোল দাগের অংশটা ভেঙে পড়েছে। তলার কাচটাও একদিন ওভাবেই ভাঙল—কাচের মাঝখানে একটা বড় গোল ফুটো। কাচের