বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পত্র পত্রিকার খবরে ভূত
১১৩

ওপর কি দিয়ে দাগ কাটা যায়? কোয়ার্জ (কাচকাটা পাথর) পাঁথর দিয়ে কাটা যায়। এই শহরে অনেক জায়গাতেই কাচকাটা পাথর বিক্রি করেন কিছু ভিন্ প্রদেশী মহিলারা। এক টাকা থেকে দু-টাকা দাম। এমনকী, দমদম স্টেশন চত্বরেই ওই পাথর বিক্রি হয়। ফটোর দোকানে কাচ কাটার জন ছোট একটুকরো কাঠের আগায় হীরে লাগানো থাকে। অমন একটা কাচ-কাটার যন্ত্র জোগাড় করা এমন কিছুই কঠিন নয়। কোয়ার্জ জাতীয় কোনও কিছু দিয়ে কাচে গোল করে দাগ কেটে রাখলে কাচের অনেকটাই কেটে যাবে। তারপর সুযোগ বুঝে বৃত্তের মাঝে একটি আঘাত করলেই কাচ ভেঙে যাবে বৃত্তের আকারে। আলমারির কাচ ভাঙার ক্ষেত্রে কোয়ার্জ জাতীয় পাথরই ব্যবহৃত হয়েছিল।

 কথার মাঝখানে প্রতিবাদ করলেন উত্তেজিত অমিয়বাবু, আপনি এভাবে কাচ কেটে দেখাতে পারবেন?

 বললাম, নিশ্চয়ই পারব। আপনি অনুমতি দিলে করে দেখাতে পারি।

 না, অনুমতি দেননি অমিয়বাবু। বরং বললেন, বুক কেসের কাচ তো গোল হয়ে ভাঙছিল না। ওটার কী ব্যাখ্যা দেবেন?

 বলেছিলাম, ভাঙা কাচগুলোর একটা অংশ গুঁড়ো-গুঁড়ো হয়ে গেছে। জোরালো আঘাত করলে আঘাতস্থলের কাচ গুঁড়ো-গুঁড়ো হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটেছে।

 অমিয়বাবুর আত্মীয় বলে পরিচিত এক ভদ্রলোক জোরালোভাবে আমার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালেন। বললেন, কাচগুলো কেউ আঘাত দিয়ে ভাঙার সময় তার পক্ষে আদৌ কি এমন ক্যালকুলেশন করে আঘাত করা সম্ভব যার দরুন গুঁড়ো হয়ে যাবে? আপনার এই থিয়োরি আদৌ মানতে পারছি না। অমিয়বাবু মুখ খুললেন, আপনি এই রকম গুঁড়ো করে ভেঙে দেখাতে পারবেন?

 বললাম, আমি আপনাদের দুজনের কথারই উত্তর দেব। অমিয়বাবুর আত্মীয়কে বললাম, আঘাতে কাচটা সাত টুকরো হয়ে ভাঙলে আপনি প্রশ্ন করতেন, কাচটা ঠিক সাতটুকরো হয়ে ভাঙল কেন? কেন দু’টুকরো বা পাঁচ টুকরো নয়? এ-ভাবে ক্যালকুলেশন করে কি ভাঙা সম্ভব? ভাঙার সময় কেউ ক্যালকুলেশন করে ভাঙে না, এক্ষেত্রেও ক্যালকুলেশন করে ভাঙেনি। মেরেছে এবং ভেঙেছে। আর অমিয়বাবুর উত্তরে জানাচ্ছি, উনি অনুমতি দিলে এইভাবে গুঁড়ো-গুঁড়ো করেই ভেঙে দেখিয়ে দিতে পারি।

অলৌকিক নয় লৌকিক/২য়—৮