কার একটা কোপদৃষ্টি পড়েছে। তাইতেই এইসব অঘটন। কিছুটা ওঁর কথা মতোই এ-বাড়ি থেকে সৌম্যকে দূরে রাখতে গত মঙ্গলবার বিকেলে সাতগাছিতে এক আত্মীয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তৃপ্তি দেবীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সৌম্যকে পাঠানোর পর আর কোনও কাচের জিনিস কি ভেঙেছিল? তিনি জানিয়েছিলেন, ঘরে বর্তমানে ভাঙার মতো কোনও কাচের জিনিস নেই, তাই ভাঙারই প্রশ্ন নেই। কাচের জিনিস রাখলে ভাঙবে, এতদিন ধরে যা ঘটছে, তাতে এটা ধরে নেওয়াই যায়। আবার সত্যি এমনও হতে পারে, এই জ্যোতিষী যা বলেছেন, তাই সত্যি। সৌমা এ-ঘরে উপস্থিত হলে ওর শরীর থেকে কোনও রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে আবার অঘটন ঘটতে থাকবে। তৃপ্তি দেবীরও ইচ্ছে ছিল, আমাদের এই ছ’ঘণ্টা পরীক্ষা চালাবার সময় সৌম্য উপস্থিত থাকুক। সৌম্যকে আনতে বলেছিলেন। ও এই ছ’ঘণ্টা ছিল, কিন্তু তবু কাচ ভাঙেনি। আসলে কাচগুলো মানুষই ভাঙছিল। আজ সে ভাঙার সুযোগ পায়নি। ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে যুক্তি এ-কথাই বলে ঘটনাগুলো ঘটিয়েছেন অমিয়বাবু পরিবারেরই কেউ। প্রশ্ন উঠেছে, কেন ভাঙবে? আপনাদের দুটি তথাকথিত ভূতুড়ে ঘটনা বলছি। শুনলে ভাঙার কারণের কিছুটা হদিশ পেতে পারেন।
‘জল-ভূত’ ও ‘পোশাককাটা-ভূত’-এর ঘটনা দুটির উল্লেখ করে বললাম, জলভূতের সৃষ্টি করে বালকটি তার মায়ের কড়া শাসনের প্রতিশোধ তুলতে চেয়েছিল, শাস্তি দিতে চেয়েছিল। আর পোশাককাটা ভূতের সৃষ্টি হয়েছিল বাড়ির কাজের কিশোরী মেয়েটির হতাশা থেকে। কিশোরীটির কথামতো বাড়ির ছোট ছেলেকে সে ভালোবাসে। ছোটছেলে তাকে আদর-টাদর করে বটে, কিন্তু ভালোবাসে অন্য একটি মেয়েকে। কিশোরীটির ইচ্ছে হয়, ছোটছেলের মুখোশ খুলে দেয় তার প্রেমিকার কাছে। কিশোরীটি বিশ্বাস করে, মুখোশ খুলতে গেলে লাভ হবে না কিছুই। বড়জোর ছোটছেলের সঙ্গে তার প্রেমিকার বিচ্ছেদ হবে। কিন্তু তাতে ছোটছেলে তাকে আদৌ বিয়ে করবে না। বরং ঘটনাটা জানাজানি হলে যে কোনও একটা অপবাদ দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। কিশোরীটি মেয়েদের পোশাক আর ছোটছেলের পাজামার ওপর আক্রোশ মিটিয়েছে তার অবদমিত যৌন আবেগ, ক্রোধ, ঈর্ষা ও হতাশা থেকে। অনেক সময়ই কিশোর-কিশোরীদের ক্ষোভ, হতাশা, অবদমিত আবেগই রূপ পেতে পারে এই ধরনের নানা কাণ্ড-কারখানা ঘটিয়ে বড়দের উত্ত্যক্ত করার মধ্যে।