একটি খবর প্রকাশিত হয়। তাতে জানানো হয় অমিয়শংকর রায় জানিয়েছেন ‘রবিবার প্রায় জোর করেই প্রবীর ঘোষ নামে এক ব্যক্তি এ সম্পর্কে পরীক্ষা করতে ঘরে ঢোকেন। সঙ্গে কয়েকটি সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদেরও ডেকে নিয়ে আসেন। পরের দিন সংবাদপত্রে তাঁর ভাষ্য পড়ে বিস্মিত।’
অর্থাৎ আমি কিছু সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রায় জোর করে তাঁর ঘরে ঢুকে দীর্ঘ ছ-সাত ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা চালিয়েছিলাম। এবং সাংবাদিকদের কী বলেছি, তিনি জানতেন না। পরের দিন সংবাদপত্র পাঠে প্রথম জানলেন এবং বিস্মিত হলেন। এত মিথ্যা ভাষণের আগে অমিয়বাবুর খেয়াল করা উচিত ছিল, ওইদিন ‘আজকাল’ পত্রিকা ভিডিও তে যতটা সময় ধরে রেখেছে, তা অমিয়বাবুর মিথ্যাচারিতার মুখোশ খোলার পক্ষে যথেষ্টর চেয়ে বেশি। এটা অবশ্য অমিয়বাবুর বোধহয় জানা ছিল না, তাঁদের সঙ্গে একাধিক দিন আমার যে সব কথাবার্তা হয়েছে, তার অনেকটাই ক্যাসেটবন্দি করে রেখেছি। জানা থাকলে এমন আদ্যন্ত মিথ্যাভাষণ থেকে নিশ্চয়ই সংযত হতেন—মুখোশ খুলে পড়ার ভয়ে।
জানি না, অমিয়বাবুর এই ধরনের মিথ্যাচারিতার সঙ্গে সৌম্য পরিচিত কি না? দীর্ঘ বছর কাছাকাছি থেকে বাবাকে দেখার দরুন বাবার এই দুর্বলতার কথা সৌম্যের অজানা না থাকতেই পারে। দেখা দিতে পারে বাবার প্রতি শ্রদ্ধাহীনতা, ক্ষুব্ধতা ইত্যাদি। পাশাপাশি বাবার এই ধরনের মিথ্যাচারিতা ছেলেকে অন্যভাবেও প্রভাবিত করতে পারে।
হতাশা, ঈর্ষা, অবদমিত আবেগ, ক্রোধ, শ্রদ্ধাহীনতা ইত্যাদি
থেকে এই ধরনের হল্লাবাজ ভূত সৃষ্টির বহু ঘটনা মনোরোগ
চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে। এমন অবস্থায়
মা-বাবার উচিত ভালোবাসা ও সহানুভূতি নিয়ে
সন্তানের পাশে দাঁড়ানো। ঠুন্কো সম্মানবোধের
দ্বারা পরিচালিত হয়ে কেউ সন্তানের ভ্রান্তিকে,
অন্যায়কে আড়াল করতে চাইলে সে
তৈরি হয়ে উঠতে পারে আর
এক ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’।
এটা বললে অপ্রাসঙ্গিক হবে না, ৯ ডিসেম্বর ’৯০ ‘আজকাল’ পত্রিকায়