এই দুটির ব্যবহার বিষয়ে ওয়াকিবহাল। আমাদের সমিতির ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ বইটি পড়ে এই রসায়ন দুটির প্রয়োগ শিখেছে, এমনও হতে পারে। খুবই ক্যাজুয়্যাল ভঙ্গিতে অথচ আসলে সতর্কতার সঙ্গে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হলাম। জানালাম এই পরিবারেই একজন ঘটনাটা ঘটাচ্ছে। এই পরিবারেরই একজন এমনটা ঘটাচ্ছে বলায় বাড়ির কেউই তেমন সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না। এমন কী, ওই দুটি রসায়নে আগুন জ্বলে—এটা মানতেই চাইলেন না। আবার ‘সপ্তর্ষির কেউ কেউ যদিও বা মানলেন, তবু তাঁদের জিজ্ঞাসা – আগুন জ্বলার সময় ধারে-কাছে কাউকে দেখা যাচ্ছে না কেন? হাতে-কলমে আমাকে পরীক্ষা করে দেখানোর জন্য রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানালেন দু-একজন অতি উৎসাহী দর্শক। সপ্তর্ষির এক তরুণ দৌড়ে কিনে আনলেন গ্লিসারিন ও পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট। বাড়ির বড় বউ দিলেন এক টুকরো কাপড়। কাপড়ের ভাঁজে পটাশিয়াম ছড়িয়ে দিয়ে ঝুলিয়ে দিলাম কাপড়টা। কাপড়ে গ্লিসারিন ঢেলে দিলাম। এক সময় গ্লিসারিন গা বেয়ে নেমে এল, পটাশিয়ামের সঙ্গে বিক্রিয়া শুরু করল, ধোঁয়া-পোড়া গন্ধই হচ্ছিল। পোড়া কাপড়ে এক গ্লাস জল ঢেলে দিতেই কাপড়টা হালকা বেগুনি হয়ে গেল—খবরের কাগজটার মতোই।
সমীরবাবু বললেন, ‘আপনি তো বললেন আমাদের পরিবারেরই কেউ এমনটা ঘটাচ্ছিল। আপনার কথা যদিও মেনে নিই, তবুও একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, যে ঘরে যখন আগুন জ্বলছে তখন দেখা গেছে ঘর ফাঁকা, কেউ নেই।’
‘তেমনটাই তো হওয়ার কথা। যে আগুন জ্বালাচ্ছিল, সে যথেষ্ট চালাক। গ্লিসারিন ঢালছে কাপড়ে বা চাদরে। যেখানে ঢালছে তার কিছুটা নীচে রাখছে পটাশিয়াম। গ্লিসারিন ধীরে ধীরে নামছে। ততক্ষণে ভিলেন অনেক দূরে। তাই প্রতিবারই ঘটনাস্থলে ঘটনার সময় ভিলেনের দেখা মেলেনি।’
সপ্তর্ষির অনেকেই জানতে চাইলেন ভিলেনের নাম। সম্ভবত তাতেই উদ্দীপ্ত হয়ে বাড়িরই এক বউ প্রায় সমস্বরে বললেন, ‘নামটা যদি জানেনই তো জানান না।’
বললাম, ‘দেখুন যে এমনটা করেছে, সে আমাকে কথা দিয়েছে আর করবে না। তার কথা ক্যাসেটবন্দি করা আছে। তাকে আমিও কথা দিয়েছি, আর এমনটা না করলে তার নাম কাউকে জানাব না। আপনাদের প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ তাকে ভালো হওয়ার একটা সুযোগ দিন। এর পরও সে যদি আবার এমন ঘটনা ঘটায় আমি নিজে এসে তার স্বীকারোক্তি আপনাদের শুনিয়ে দিয়ে যাব।
আমার এই কথা শোনার পর কেউ আর নাম জানতে পীড়াপীড়ি করেননি।