বলেন, তাঁরা কারোর না কারও বাবা, মা, দাদা, দিদি যে কেউ। এর কোনও বিকল্প নেই। গুল ছাড়া কিচ্ছু নেই।
সঞ্চালিকা: একেবারেই। সেই সত্য উদ্ঘাটন তো আমরা করবই। তবে নাগেরবাজার উড়ালপুলে ভূতের গল্প মোটামুটি একই। আক্রান্ত কখনও দু-চাকা, কখনও চার-চাকা। গল্প শুনেছি অনেকের। কিন্তু ভূতের দেখা আমরা পাইনি। তাই ভূত সাজাতে হয়েছে। আর সাজাতে হয়েছে ঘটনাও। আতঙ্কিত ঘটনার বর্ণনার পুনঃনির্মাণ করেছি আমরা। চলুন দেখি।
নীল-সাদা ডোরাকাটা শান্ত নাগেরবাজার উড়ালপুল। এপারে দমদম ভগবতীপুর আর ওপারে সরোজিনী নাইডু কলেজ। নতুন ব্রিজ দিয়ে সকাল থেকে রাত গাড়ির মিছিল। তীব্র গতিতে ছুটে যাচ্ছে এপার থেকে ওপার ওখানেই নাকি ওত পেতে থাকে ভয়। উড়ালপুলের মাঝেই নাকি আছে এক বা একাধিক অশরীরী। কোথায়? কোনখানে?
না দিনের আলোয় কোনও চিহ্ন নেই। শান্ত-সুন্দর এই পুলে ভয় কোথায়? কোথায় অশরীরী ছায়া?
না কিচ্ছু নেই। না আছে ছায়া, না আছে শব্দ। ভূতের গন্ধ মাত্র নেই এ-মাথা থেকে ও-মাথা পর্যন্ত।
কিন্তু আঁধার নামলেই ঘনিয়ে আসে ভয়। মুখে মুখে প্রতিদিন ছড়িয়ে পড়ছে ভয়। উড়ালপুলের বাঁকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘনিয়ে আসে আতঙ্ক। কোনও অশরীরী নেমে আসে উড়ালপুলের বাঁকে।
দোকলা গেলে দোষ নেই। একলা গেলেই ভয়। সেই ভয় ছড়িয়ে পড়ছে গল্পে-গল্পে। এক চালকের মুখ থেকে আর এক চালকের মুখে। দু-চাকা বা চার-চাকা। উড়ালপুলের বাঁকে কে যেন হাত দেখায়। উঠতে চায় গাড়িতে। কুহেলের ডাকের মতো দাঁড়িয়ে পড়ে গাড়ি। চালকের হাত-পা যেন নিশির ডাকে সাড়া দিয়ে থামিয়ে দেয় গাড়ি। কে সে? কেন দাঁড় করায় গাড়ি? কী চায় সে?
আতঙ্ক বাড়ছে। ভয় বাড়ছে। প্রতিদিন সকাল নিয়ে আসছে আঁধার রাতের নতুন নতুন আতঙ্কের কাহিনি। আগের রাতে অশরীরী হানা চালিয়েছেন কারও ওপরে? শোনা যায় নানা কাহিনি।