চালক গাড়ি দাঁড় করাতেই খুলে যায় দরজা। সামনের সিটে বসে মাঝবয়সি কেউ। চলতে থাকে গাড়ি। কিন্তু আচমকাই প্রচণ্ড আঘাতে সম্বিৎ ফেরে চালকের। কিন্তু ততক্ষণে পাশের সিটে কেউ নেই। কোনও চিহ্ন নেই। কেউ কোথাও নেই। নিঃশব্দে নেমে গেছে সেই মাঝবয়সি পুরুষ। শুনশান রাস্তায় গাড়িচালকের শিরদাঁড়া বেয়ে শিরশির করে নেমে আসে বিন্দু বিন্দু ঘাম। রাতের আঁধারে ঘুমিয়ে পড়ে উড়ালপুল। পরদিন সকালে মুখে মুখে শোনা যায় নতুন গল্প, নতুন আতঙ্কের কাহিনি। রহস্যের আড়ালে থেকে যায় নাগেরবাজার উড়ালপুল। ভূতের ভয় গ্রাস করে নেয় গাড়ি-চালকের অবচেতন।
সত্যিই কি কোনও ছায়া মানুষ হামলা চালায় গাড়ির চালকদের ওপর নাকি মানুষের বেশে কোনও অমানুষ দুষ্কৃতী। কী চায় সে? কেন আসে রাতের অন্ধকারে? সত্যিই কি সে আছে নাকি শুধু ভয়, ভয় আর ভয়।
সঞ্চালিকা: আপনাদের খুব ছোট করে একটা নাট্যরূপান্তর দেখালাম। লোকের মুখে যেভাবে নাগেরবাজার উড়ালপুল সম্বন্ধে নানারকমের গল্প শোনা যাচ্ছে তার কিছু দেখালাম আপনাদের! প্রবীরবাবু আপনার কাছে প্রথমে আসছি। আপনি দেখলেন এই নাট্যরূপান্তর যেটা বারেবারে করে প্রত্যেকের মুখে ঘুরে ফিরে আসছে।
প্রবীর: আমি নাগেরবাজারে বাজার করি। ধরা গেল সকালবেলায় বাজার করতে যাচ্ছি, এই ওই দোকানদার সবাই চেনে আমায়। কাকু, জেঠু এইরকম ভূত দেখা যাচ্ছে কিছু একটা করুন। যখন আমি বলি তুমি দেখেছ, বলে হ্যাঁ আমি নিজে দেখেছি।
ঠিক আছে চলো। যেদিন যাবে বলো। ব্যস, তারা গায়েব। এই যে প্রত্যক্ষদর্শীরা, তারা প্রত্যেকে হল না-দেখা মানুষ। যেমন ঘড়ির ম্যাজিকটা পি সি সরকার কোনও দিন দেখাননি। কিন্তু গাদা-গাদা লোক নাকি দেখেছে। এরকম ভূত কেউ দেখেনি যাদের প্রত্যেককে অফার করেছি, আবার বলছি ২৫ লাখ দিয়ে দেব। ব্যাঙ্ক থেকে চেক বাউন্স করবে না আমার।
সুতরাং এইগুলো খালি মিথ্যে কথা বলে যাচ্ছে। কারণ একজন প্রত্যক্ষদর্শী হলেই না মানুষের মধ্যে মিথ্যে কথা বলার প্রবণতা থাকে। ও প্রত্যক্ষদর্শী হল, আমিও প্রত্যক্ষদর্শী। প্রত্যক্ষদর্শী হলে একটা ঘ্যাম থেকে যায় না। সেই ঘ্যাম