কাশি, ব্রোঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, ব্লাডপ্রেসার, অবসাদ, ক্লান্তি ইত্যাদি। যখন এইসব রোগ মানসিক কারণে হয়, তখন রোগীর বিশ্বাসবোধকে কাজে লাগিয়ে মূল্যহীন ঔষধ, ক্যাপসুল ইনজেক্শন বা ট্যাবলেট প্রয়োগ করেই বহুক্ষেত্রে রোগীদের রোগ মুক্ত করা সম্ভব হয়। এই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতিকে বলে প্ল্যাসিবো (Placebo) চিকিৎসা পদ্ধতি। উপরে বর্ণিত রোগে পীড়িত কেউ যদি পরম বিশ্বাসে কোনও ধর্মগুরু বা তান্ত্রিকজাতীয় কারও কাছে আরোগ্যের প্রার্থনা জানিয়ে পরম আশ্বাস লাভ করেন, “যা, তুই ভালো হয়ে যাবি” জাতীয় কথার মাধ্যমে, তবে অনেক সময় দেখা যায় রোগী রোগমুক্তও হয়ে যাচ্ছেন—এই একই কারণে জল-পড়া তেল-পড়া, তাবিজ কবজেও অনেক সময় দেখা যায় রোগ সারছে। এই জাতীয় রোগমুক্তির পিছনে কখনওই কোনো অলৌকিক ক্ষমতা কাজ করে না, কাজ করে ধর্মগুরু, তান্ত্রিক বা ওঝাদের প্রতি রোগীদের অন্ধ বিশ্বাস। প্রথম খণ্ডে এই নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছি।
আবার মস্তিষ্ক কোষের বিশেষ গঠন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বা হিস্টিরিয়া রোগীর বিভিন্ন ধরনের অন্ধ-বিশ্বাস, কুসংস্কার ও সংবেদনশীলতার জন্য এমন অনেক কিছু ঘটিয়ে দেন, যেগুলোকে সাধারণ মানুষ শারীরবৃত্তি বিষয়ে অজ্ঞতার দরুন ভূতে ভর বা ঈশ্বরে ভর বলে ধরে নেন, ফলে বহু ক্ষেত্রেই হিস্টিরিয়া রোগীরা পূজিত হয় বা নিন্দিত হয় ঈশ্বরের বা ভূতের প্রতিভূ হিসেবে। সাধারণভাবে অশিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত বা প্রগতির আলো থেকে বঞ্চিত সমাজের মানুষদের মধ্যেই এই ধরনের হিস্টিরিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। সাধারণভাবে এই শ্রেণির মানুষদের মস্তিষ্ককোষের স্থিতিস্থাপকতা বা সহনশীলতা কম। যুক্তি দিয়ে বিচার করে গ্রহণ করার ক্ষমতা অতি সীমিত। বহুজনের বিশ্বাসকে মেনে নিতে অভ্যস্ত। মস্তিষ্ককোষের সহনশীলতা যাদের কম তারা এক নাগাড়ে একই ধরনের কথা শুনলে বা ভাবলে অনেক সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপে বিশৃঙ্খলা ঘটে। একান্ত ঈশ্বর বিশ্বাস বা ভূতে বিশ্বাসের ফলে রোগী ভাবতে থাকে তার শরীরে ঈশ্বরের বা ভূতের আবির্ভাব হয়েছে, ফলে রোগী ঈশ্বরের বা ভূতের প্রতিভূ হিসেবে অদ্ভুত সব আচরণ করতে থাকে।
এই জাতীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মস্তিষ্ক কোষের অধিকারীদের কেউ কেউ নিজের অজান্তে স্ব-নির্দেশ (auto-suggestion) পাঠিয়ে অন্যের ব্যথার চিহ্ন নিজের শরীরে গ্রহণ করেন। মস্তিষ্ক কোষের ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে