শরীর বৃত্তির এই অস্বাভাবিকতাকেই অনেকে অলৌকিক ঘটনা বলে ধরে নেন। এ বিষয়েও আগে দীর্ঘ আলোচনা করেছি।
তাই অনেক সময় তথাকথিত অলৌকিক ঘটনা দেখার সঙ্গে সঙ্গে কৌশল ধরে ফেলা এবং একই ঘটনা ঘটিয়ে দেখানো সম্ভব নাও হতে পারে। দু-পাঁচদিন দেরি হতেই পারে। শুধুমাত্র এই কারণে, কেউ কোনও অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়ে দেখাতে চাইলে তাঁকে জানাতে বলি তিনি কী ঘটিয়ে দেখাবেন। তিনি যদি বলেন, জলের উপর দিয়ে হেঁটে যাবেন বা শূন্যে ভেসে দেখাবেন, সে ক্ষেত্রে বাস্তবিকই তিনি এ সব অলৌকিক ক্ষমতার সাহায্যেই যদি দেখান তবে আমার পক্ষে তাঁর লৌকিক কৌশল ধরে ফেলার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু কী ঘটিয়ে দেখাবেন জানা থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার সময়ের ব্যবধানের মধ্যে সম্ভাব্য কৌশলগুলো নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করার সুযোগ আমি পেতে পারি এবং সেই ভাবনা-চিন্তার ফসল হিসেবেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারীদের পরাজিত করা আমার পক্ষে সম্ভব।
এই মুহূর্তে দর্শকদের একাংশ যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপস্থিত দর্শকদের প্ররোচিত করছেন এবং সভায় একটা গোলমাল বাধাবার চেষ্টা করছেন সেটা আমাদের সমিতির সভ্যদের নিয়ে জোর করে বন্ধ করতে চাইলে একটা অসুবিধে হতেই পারে। দর্শকদের মধ্যে অনেক মহিলা আছেন। গোলমালের সূচনা হলে তাঁদের অবস্থাটা কী হতে পারে সেটাও যেমন ভাবার বিষয়, তেমনই ভাবার বিষয় হল বন্ধ প্রেক্ষাগৃহে গণ্ডগোল শুরু হলে আমরা দ্রুত গণ্ডগোল বন্ধ করতে না পারলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে? একটা দুর্ঘটনা আমাদের সমিতির সম্মানকে অনেকটাই নষ্ট করে দিতে পারে। আর বেশি ভাববার মতো সময় ছিল না। ঘোষণা করলাম, “আপনাদের দাবির প্রতি সম্মান জানাতে আমি এই মুহূর্তেই বিজয়া দেবীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি।”
গোটা প্রেক্ষাগৃহ উল্লাসে যেন ফেটে পড়ল। এবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা বিজয়া ঘোষের দিকে ফিরলাম, “আপনি কী ধরনের অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়ে দেখাতে চাইছেন?”
মাউথপিস মুখে বন্দি করে বিজয়া দেবী শুরু করলেন, “এতক্ষণ আপনি আপনার বক্তব্যে বললেন, ধর্মশাস্ত্রগুলোতে আত্মার বিষয়ে বলা হয়েছে, আত্মা মানে চিন্তা, চৈতন্য বা মন। বিজ্ঞান বলতে মন বা চিন্তা হল মস্তিষ্ক কোষেরই অ্যাকশন, মস্তিষ্ক কোষের অ্যাকশন তত দিনই থাকবে যতদিন মানুষ বেঁচে থাকবে। মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক কোষেরও অ্যাকশন শেষ হয়,