কথা মনে পড়ল। গৌতম ভারতীও বিজয়া দেবীর মতোই বলেছিলেন ভক্তরা ভালোবেসে যে যা দেন, তাই গ্রহণ করেন। কেউ দুহাজার টাকা দিলেও নেন, কেউ পঁচিশ হাজার দিলেও।
বললাম, “আপনি কি বাস্তবিকই এই হল ভর্তি দশর্কদের সামনে আত্মা এনে দেখাবেন?”
“নিশ্চয়ই।”
“শুনেছি ভূতেরা ভিড়-টিড় পছন্দ করে না। যাঁরা প্ল্যানচেটে আত্মা আনেন বলে দাবি করেন, তাঁরাই আমাকে এ ধরনের কথা বলেছেন। যাই হোক, প্ল্যানচেটে আত্মা না হয় আনলেন, কিন্তু আত্মা যে বাস্তবিকই এসেছে, তা আমরা বুঝব কী করে?
“আপনার যে কোনও প্রশ্নের উত্তর আত্মা দেবে। আত্মা সূক্ষ্মদেহী, সর্বত্রগামী, তাই যে কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম।”
“এই মঞ্চেই তো দেখাবেন, কী কী ব্যবস্থা করতে হবে বলুন, আমাদের সমিতির ছেলেরা...”
আমাকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েস বিজয়া দেবী বললেন, “যা যা প্রয়োজন সবই নিয়ে এসেছি।”
একটুক্ষণের মধ্যে মঞ্চে একটা ছোট এবং চওড়া বেঞ্চ উঠে এল। বেঞ্চটাকে সামনে রেখে চেয়ারে বসলেন বিজয়া দেবী। বেঞ্চের উপর পাতলেন বিশাল একটা সাদা কাগজ ও তার উপর তিন-কোনা প্ল্যানচেট টেবিল। ত্রিভুজ আকৃতির প্ল্যানচেট টেবিলের তিনটি দিকের দৈর্ঘ্যই আনুমানিক ৬ ইঞ্চি করে। তলায় পায়ার বদলে তিনটি লোহার বল লাগানো। প্ল্যানচেট টেবিলের এক কোণে একটা ফুটো। ফুটোয় একটা ডট পেন গুঁজে দিলেন বিজয়া দেবী। পেনের মুখ রইল কাগজ ছুঁয়ে।
মাথাটাকে বার কয়েক জোরে জোরে নেড়ে বিজয়া দেবী প্ল্যানচেট টেবিল দু’হাতে ছুঁয়ে স্থির হয়ে রইলেন। মিনিট তিন চার। প্ল্যানচেট টেবিল থরথর করে বার কয়েক কেঁপে উঠেই গতি পেল, কাগজের উপর দ্রুত ওঠানামা করল।
কাগজটা তাঁরই এক ভক্তের হাতে তুলে দিয়ে বললেন, “আত্মার লেখাটা সমস্ত দর্শকদের দেখান।”
ভক্ত দু’হাতে কাগজটা মেলে ধরলেন দর্শকদের দিকে। বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে, অরবিন্দ বিশ্বাস। চিৎকার ও হাততালিতে প্রেক্ষাগৃহ ভরে গেল।