এক উৎসাহী দর্শক মঞ্চে উঠে এলেন। বিজয়া দেবীকে প্রশ্ন করলেন, “বলুন তো আমার পেশা কী?”
বিজয়া দেবী তৎপর হলেন। নতুন একটা কাগজে অরবিন্দের আত্মা লিখল ‘সাংবাদিক’। বিজয়া দেবী এবার প্রশ্নকর্তাকে প্রশ্ন করলেন, “উত্তর ঠিক হয়েছে?”
প্রশ্নকর্তা উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ।”
আর এক প্রস্থ প্রচণ্ড হাততালিসহ চিৎকার।
এবার আরও কয়েকজন মঞ্চে উঠে এলেন। উদ্দেশ্য প্রশ্ন করা। আমার সমিতির সদস্যদের দু-একজনও বিজয়া দেবীর দিকে এগিয়ে এসেছে। তাঁদেরও উদ্দেশ্য সম্ভবত বিজয়া দেবীকে কঠিন কিছু প্রশ্ন করে আমাকে সাহায্য করা। অবস্থা আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে আমার মুঠোবন্দি মাউথপিসকে কাজে লাগালাম, “আপনাদের প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ, আপনারা কেউ মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করবেন না, বা বিজয়া দেবীকে কোনও প্রশ্ন করার চেষ্টা করবেন না। আপনাদের কারও প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিলেই প্রমাণিত হবে না যে, আমি পরাজিত হয়েছি। আমাদের দুজনের মোকাবিলা আমাদেরই করতে দিন। সেই সঙ্গে এই প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছি, এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার পর লিখে আপনাদের বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে দেব। লিখে সঠিক উত্তর দিলেই প্রমাণ হয় না যে আত্মা আছে বা অলৌকিক ক্ষমতা আছে। স্রেফ কৌশলের সাহায্যেই এমন উত্তর দেওয়া সম্ভব। অতএব প্রত্যেকের কাছে আবারও অনুরোধ করছি, আপনারা আমাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিন। আমি একটি প্রশ্ন করব, সঠিক উত্তর দিতে পারলে, আমার হাতঘড়িটা অবশ্যই দিয়ে যাব, এবং সেই সঙ্গে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি ভেঙে দেব।”
মঞ্চে উঠে আসা উৎসাহীরা বিদায় নিতে বিজয়া দেবীকে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার আনা আত্মাটি তো সূক্ষ্মদেহী। একটা নোটের (টাকার) নম্বর জিজ্ঞেস করলে নিশ্চয়ই বলতে পারবে?”
“অবশ্যই পারবে।” প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথাগুলো বললেন বিজয়া দেবী।
পকেটের মানিব্যাগ থেকে একটা দু’টাকার নোট বের করে ডান হাতের মুঠোয় রেখে বললাম, “আমার ডান হাতে রয়েছে দু’টাকার এই নোটটা। প্ল্যানচেটের সাহায্যে নোটের নম্বরটা বলে দিলেই পরাজয় স্বীকার করে নেব।”