বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১৬২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫৮
অলৌকিক নয় লৌকিক ২
১৫৮

 তমোনাশ জানালেন, কয়েকজন সাংবাদিক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার তরফ থেকে ইতিমধ্যে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককেই হাত জোড় করে জানিয়েছি ক্ষমা করবেন। আমরা প্রচার চাই না। প্রচার ছাড়াই যে বিপুল সংখ্যাক রোগী আসছেন, তার ভিড় সামাল দিতেই হিমশিম খাচ্ছি, অত এব মাপ করবেন। তবে আপনার চিকিৎসার বিষয়ে নিশ্চয়ই সাহায্য করব। এ জন্য আপনাকে দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা ক্যাশ।”

 “যারা চিকিৎসা করাতে আসছেন তাঁরা কেমন ফল পাচ্ছেন?”—জিজ্ঞেস করলাম।

 "মিরাকল রেজাল্ট।” কয়েকজন রোগীর নাম ও তাদের আরোগ্যলাভের গল্প বলতে বলতে আমার মতো একজন উৎসাহী শ্রোতাকে দেখাবার জন্য ঘরের ভিতরে গিয়ে নিয়ে এলেন কয়েকটা রঙিন ফটোগ্রাফ। তমোনাশের উপর ফেইথ হিলিং চলাকালীন তোলা ছবি।

 বললাম, “আপনার ছবি দিয়ে আপনার ফেইথ হিলিং-এর অভিজ্ঞতার কথাই পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে চাই।”

 আমার কথায় চিঁড়ে ভিজল মনে হল। খাতা-কলম বের করে তমোনাশের অভিজ্ঞতার কথা জেনে টুকে নিতে শুরু করলাম।

 ফিলিপিন থেকে আসা এই ফেইথ হিলারের নাম Mr. Romeo P. Gallarrdo। সহকারী হিসেবে সঙ্গে এসেছেন Mr. Rosita J. Gallardo| উঠেছেন কলকাতার লিটন হোটেলে। এঁদের ভারতে নিয়ে আসার আর্থিক দায়-দায়িত্ব নিয়েছেন গৌহাটির কোটিপতি ব্যবসায়ী রামচন্দ্র আগরওয়াল। কলকাতার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছেন রামচন্দ্র আগরওয়ালের শ্যালক অলোক খৈতান। শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও বেশি রকম সুস্থ ও চনমনে হতে গ্যালার্ডোর ফেইথ হিলিং-এর সাহায্য নিয়েছিলেন তমোনাশ। দারুণ কাজ হয়েছে। তমোনাশকে এ জন্য কোনও টাকা দিতে হয়নি। মিস্টার গ্যালার্ডোর সঙ্গে তমোনাশের খুব ভালো ভাব হয়ে গেছে। ভিড় ভালোই হচ্ছে। দিনে রোগী আসছেন একশো থেকে দেড়শো।

 তমোনাশের ছবিগুলো থেকে দুটো ছবি নিয়ে বললাম, “এই ছবি দুটো সহ লেখাটা ছাপতে চাই। লেখাটা আরও ভালো হত যদি গ্যালার্ডোর একটা সাক্ষাৎকার সঙ্গে ছাপতে পারতাম।”

 তমোনাশ বললেন, “কাল রাতে একবার আসুন। আমি গ্যালার্ডোর সঙ্গে কথা বলে দেখি কিছু করা যায় কি না।”