দেহাংশ। তবে এতগুলো অনুসন্ধিৎসু চোখ ও টি ভি ক্যামেরা যা দেখল সেটা কী? রোগীরা যা অনুভব করলেন তার কি কোনোই গুরুত্ব নেই?
এ ক্ষেত্রে অবশ্য নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় না—ফেইথ হিলার প্রতারক। কারণ, পরীক্ষা গ্রহণকারীদের পক্ষে দেহাংশ ও রক্তের নমুনা পাল্টে দেবার সুযোগ ছিল। যেহেতু সরকারিভাবে কোনও ফরেনসিক বিভাগ অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সঙ্গে দেহাংশ ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে তা সিল করে পরীক্ষার দায়িত্বগ্রহণ করেনি, তাই সুনিশ্চিতভাবে কোনও কিছুই প্রমাণিত হয় না।
ফেইথ হিলারদের কাছে যে সব রোগী চিকিৎসা করিয়েছেন তাঁদের কিছু ঠিকানা জোগাড় করে গ্রানেডা টিভি প্রোডাকশন। কেইথ হিলিং-এর পর বর্তমানে তাঁরা কেমন আছেন, এই তথ্য সংগ্রহই ছিল গ্রানেডার উদ্দেশ্য। ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। যাঁদের মতামত সংগ্রহ করা গিয়েছিল তাঁদের বেশির ভাগই জানান, ফেইথ হিলিং-এরপর অনেকটা সুস্থ, অনুভব করেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে আবার উপসর্গগুলো ফিরে এসেছে। বাকি রোগীরা জানান—এখন সামান্য ভালো অনুভব করছেন (‘felt a little better’)|
দুই ফেইথ হিলার David Elizalde এবং Helen Elizalde-এর অলৌকিক অস্ত্রোপচারের উপর B.B.C. একটা অনুষ্ঠান প্রচার করে। অনুষ্ঠানটির পরিচালক ডেভিড ও হেলেনকে জালিয়াত, ধোঁকাবাজ এবং প্রতারক বলে বর্ণনা করেন। কারণ, মানুষের দেহে অস্ত্রোপচার করে তাঁরা যা বের করেছিলেন, পরীক্ষার ফলে তা শুয়োরের দেহাংশ বলে B.B.C. জানান। এই ক্ষেত্রেও রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে জানা যায়—মানুষের রক্ত নয়। এ ক্ষেত্রেও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি সংগৃহীত নমুনাই পরীক্ষিত হয়েছিল। কারণ এটাও আগের মতোই সরকারি পরীক্ষা ছিল না। ছিল সম্পূর্ণ বে-সরকারি উদ্যোগে পরীক্ষা।
ফেইথ হিলিং ব্যাপারটার মধ্যে একটা ধোঁকাবাজি আছে এ কথা একাধিকবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও ওঁরা কী কৌশলে নিজেদের হাতের আঙুলগুলো রোগীর শরীরে ঢুকিয়ে দেন এবং কী কৌশলেই বা তৎক্ষণাৎ রক্তের আমদানি করেন, কেমন করেই বা আসে অস্ত্রোপচারে বিচ্ছিন্ন করা দেহাংশ, এসব প্রশ্নের উত্তর কিন্তু কেউই যুক্তিপূর্ণভাবে হাজির করতে পারেননি।
ফেইথ হিলারদের ফেইথ হিলিং-এর কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা