ছিলেন। মিস্টার ও মিসেস গ্যালার্ডো আছেন ৪৪ নম্বর ঘরে। এছাড়া আর এমন কিছু খবর পেলাম যার ফল এটুকু বুঝতে অসুবিধে হল না যে আমাকে অস্ত্রোপচার করার পর সেই রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার চেষ্টা করাটা অত্যধিক ঝুঁকির ব্যাপারে হবে। কথাটা বোধহয় ভুল বললাম। বরং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম ওদের বিরুদ্ধে, কিছু করতে গেলে হোটেল লিটনের বাইরে আমাদের জীবিত দেহ আর কোনো দিনই বের হবে না। ছয় তারিখ বারোটা থেকে আমি লিটন থেকে না বের হওয়া পর্যন্ত আর কয়েকজন অতিরিক্ত যুক্তিবাদী সদস্যকে লিটনে নজর রাখার জন্য নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এঁরা কেউই বিপদে খুব একটা ঘাবড়ে যাওয়ার মতো নন।
সেদিন দুপুর সাড়ে এগারোটায় ফোন করলাম কলকাতা পুলিশের তৎকালীন যুগ্ম-কমিশনার সুবিমল দাশগুপ্তকে। ফেইথ হিলারদের রহস্যময় চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষেপে বলে জানালাম, বর্তমানে আমাদের এই শহরের লিটন হোটেলে বিশ্বখ্যাত এক ফেইথ হিলার অবস্থান করছেন। আজ আড়াইটের সময় আমি তাঁর একটা সাক্ষাৎকার নেব, তারপর আমার উপর অপারেশন করাব। ইনিই সম্ভবত প্রথম ফিলিপিনো ফেইথ হিলার যিনি ভারতে এলেন।
সুবিমলবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “এই বিষয়ে তোমার মত কী? সত্যিই কি ওঁরা খালি হাতে অপারেশন করেন?”
বললাম, “আমার ধারণা পুরোটাই একটা বিশাল ধাপ্পা। আমি আশা রাখি ওদের কৌশলটা ধরতে পারব। এই বিষয়ে আপনার একটু সাহায্য চাই বলেই ফোন করা। আমাকে অপারেশন করার পর আমার শরীর থেকে যে রক্ত বের হবে তার নমুনা আপনি ফরেনসিক টেস্টের জন্য সংগ্রহ করলে বাধিত হব। কারণ এই রিপোর্টই পারে ওই দীর্ঘদিনের এক সন্দেহের ও বিতর্কের অবসান ঘটাতে।”
ও প্রান্ত থেকে উত্তর এল, “মোস্ট ইণ্টারেস্টিং। নিশ্চয়ই যাব। কটায় তোমার অ্যাপয়েণ্টমেণ্ট?”
“দুটো তিরিশে, হোটেল লিটনে। একটি অনুরোধ, প্লেন ড্রেসে যাবেন।”
“তুমি ঠিক দুটোয় লালবাজারে চলে এসো॥”
আড়াইটের আগেই হোটেল লিটনে পৌঁছলাম। সুবিমলবাবুর সরকারি