অ্যামবাসেডার আর দেহরক্ষীদের আমরা ত্যাগ করলাম। গ্লোব সিনেমা হলের কাছে। হোটেলে ঢুকলাম আমরা পাঁচজন। আমি, সুবিমল দাশগুপ্ত, ভারতীয় যুক্তিবাদী সমিতির দুই সভ্য প্রাক্তন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জ্ঞান মল্লিক, চিত্র-সাংবাদিক সৌগত রায়বর্মন এবং দর্শক হিসেবে আমার অফিসের এক সহকর্মী।
প্রথম হানা দিলাম ৪৪ নম্বরে ঘরে। নক্ করতেই দরজা খুললেন মিস্টার গ্যালার্ডো। পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলাম। ভাঙা ভাঙা ইংরিজিতে মিস্টার গ্যালার্ডো জানালেন,
“আপনার কথা মিস্টার তমোনাশের কাছে শুনেছি। আপনি আসায় খুশি হয়েছি, দয়া করে ৪৬ নম্বর রুমে মিস্টার আগরওয়ালের সঙ্গে আগে দেখা করুন। একটু পরেই আমি আসছি। মিস্টার আগরওয়ালের সামনে ছাড়া আমি কোনও ইণ্টারভিউ দিতে অক্ষম।”
৪৬ নম্বর রুমে অনেককেই পেলাম। রামচন্দ্র আগরওয়াল, অলোক খৈতান, তমোনাশ দাস এবং অসম অগ.প. নেতা বলে পরিচয় দেওয়া জনৈক বসন্ত শর্মাকে। তমোনাশই ওঁদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন।
আমার চার সঙ্গীর সঙ্গে ওঁদের পরিচয় করিয়ে দিলাম। শুধু সুবিমল দাশগুপ্তের বেলায় মিথ্যে বললাম, “মিস্টার দাশগুপ্ত, আমার কাজিন ব্রাদার।” আমরা সকলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে খুব দ্রুত খোলামেলা আলোচনায় মেতে উঠলাম। আগরওয়াল এবং অলোক খৈতান দুজনেই ভালোই বাংলা বলেন।
একসময় আমার প্রশ্নের উত্তরে মিস্টার আগরওয়াল জানালেন, “আমার এক আত্মীয়ের একটা চোখ অন্ধ হয়ে যায়। ম্যানিলায় গিয়ে ফেইথ হিলিং করিয়ে সে আবার দৃষ্টি ফিরে পেয়েছে। তখনই আমার মাথায় একটা চিন্তা ঢোকে। বড়লোকেরা না হয় রোগ সারাতে ম্যানিলায় যেতে পারে, কিন্তু গরিবদের কঠিন অসুখ হলে তারা কী করবে? ভাবলাম দেশের সাধারণ মানুষদের জন্য না হয় কিছু খরচা করলামই। আমার আত্মীয়ের কাছ থেকে ডাক্তারের ঠিকানা নিয়ে ‘ফেইথ হিলিং করতে যাচ্ছি’ জানিয়ে ভিসা করে ম্যানিলায় চলে গেলাম। ওখানে মিস্টার গ্যালার্ডোর সঙ্গে দেখা করে আমার পরিকল্পনা জানাই। উনি খুবই ভালো লোক, আধ্যাত্মিক জগতের লোক তো আমার কথায় ভারতে আসতে রাজি হলেন।
“৭ আগস্ট মিস্টার অ্যাণ্ড মিসেস গ্যালার্ডো কলকাতায় আসেন। এই