থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অতএব রোজগারের ধান্দা থাকলেও ২৭ আগস্টের পর মিস্টার ও মিসেস গ্যালার্ডোর আসামে থাকা সম্ভব ছিল না। আগরওয়ালকে প্রশ্ন করলাম, “আপনি একটু আগে বলছিলেন দেশের গরিব মানুষদের সেবার জন্য মিস্টার গ্যালার্ডোকে নিয়ে এসেছেন। তবে রোগীদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন কেন?”
আমার প্রশ্নের শুনে প্রথমটায় আগরওয়াল সামান্য গুটিয়ে গিয়ে পরে সামলে নিয়ে বললেন, “যে বিশাল খরচ করে এঁদের এনেছি তাতে খরচের কিছুটা অংশ না তুলতে পারলে তো মরে যাব দাদা। হোটেল খরচই মেটাচ্ছি রোজ আট-হাজার টাকা। তার উপর এই হোটেলের মালিকের পাঠানো দুজন করে রোগী প্রতিদিন বিনে পয়সায় দেখে দিচ্ছি।”
হাসলাম, বললাম, “আপনি তো প্রত্যেক রোগীকে দিয়েই একটা ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম ফিল-আপ করাচ্ছেন। আমাকে ফর্মের ফাইলটা একটু দেবেন। কিছু রোগীর ঠিকানা নেব। একটা সার্ভে করে দেখতে চাই তাঁরা ফেইথ হিলিং করিয়ে কেমন ফল পেয়েছেন।”
অলোক দু-কাঁধ ঝাঁকিয়ে জানালেন, “ফাইলটা কালই হারিয়ে গেছে।”
কথায় কথায় মিনিট কুড়ি বোধহয় পার হয়েছে, একজন তরুণ ভেজানো দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে তমোনাশকে ইশারায় ডেকে বেরিয়ে গেলেন। তমোনাশও বেরোলেন। মিনিট দুয়েক পরেই তমোনাশ ডাকলেন আগরওয়ালকে। তার মিনিট দুয়েক পরেই আগরওয়াল আমাকে বাইরে ডাকলেন। বাইরে এসে দেখি করিডরে তমোনাশ, আগরওয়াল ও যে ছেলেটি দরজা নক করেছিল সে দাঁড়িয়ে। প্রত্যেকেই যেন কিছুটা অস্বস্তি ও চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।
আগরওয়াল আমাকে সোজাসুজি জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার সঙ্গে কি সাদা পোশাকে পুলিশ কমিশনার বা জয়েণ্ট কমিশনার রয়েছেন?”
“কেন বলুন তো?”
“না, খবর পেলাম কি, গ্লোব হলের কাছে ওই জাতীয় পদের কারও একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ইউনিফর্ম পরা বডিগার্ড গাড়িতেই রয়েছে। কমিশনার বা জয়েণ্ট কমিশনার যিনিই এসে থাকুন তিনি যখন বডিগার্ড সঙ্গে নেননি তখন প্লেন ড্রেসেই কাছাকাছি কোথাও আছেন। আমাদের মনে হচ্ছে তিনি আপনার সঙ্গে আছেন।”
"হ্যাঁ, মিস্টার দাশগুপ্তের সঙ্গে যে আলাপ করিয়ে দিলাম, তিনিই জয়েণ্ট