বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অলৌকিক নয়, লৌকিক (দ্বিতীয় খণ্ড) - প্রবীর ঘোষ.pdf/১৮৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভূতুড়ে চিকিৎসা
১৮৫

পরীক্ষার জন্য। ব্যাপার-স্যাপার দেখে গ্যালার্ডো দম্পতি তড়িঘড়ি কলকাতা থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালালেন ম্যানিলায়। ইতিমধ্যে ফরেনসিক রিপোর্টে মিলেছে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। রক্তের নমু মানুষের নয়। পশুর। যুক্তিবাদী প্রবীরবাবু বিভিন্ন সমাবেশে দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন অলৌকিক বলে প্রচারিত লোক ঠকানো ‘ফেইথ হিলিং’ বা ‘সাইকিক সার্জারি’-র লৌকিক কৌশল। আর এক কাজে প্রবীর ঘোষকে চিঠিপত্রে প্রায়শই উৎসাহ জোগাচ্ছেন অলৌকিক-বিরোধী জনপ্রিয় মার্কিন লেখক জেমস র‍্যাণ্ডি।

 বিভ্রান্তির কারণ তিনটি। প্রথমত প্রতিদিন একশো থেকে দুশোজন রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচার করার ক্ষেত্রে নিজের শরীরের রক্তকে রোগীর শরীরের রক্ত বলে বিশ্বাস স্থাপন করাতে কম করেও যে পরিমাণ রক্ত নিজের শরীর থেকে বের করা প্রয়োজন সেই পরিমাণ রক্ত বের করার পরও স্পেশাল ডাক্তারের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব কি না? বিশেষত স্পেশাল ডাক্তার যেহেতু প্রতিদিনই এই সংখ্যক রোগীদের শরীরে অস্ত্রোপচার করে চলেছেন।

 দ্বিতীয়ত, আঙুলের ফাঁকের অংশে শরীরের ভিতর আলপিন ফুটিয়ে অত বিপুল রক্ত বের করা আদৌ বাস্তবসম্মত চিন্তার ফসল নয়, বিশ্বাসযোগ্য নয়।

 তৃতীয়ত, কলকাতার গোয়েন্দা দপ্তর যে রক্তের নমুনা অস্ত্রোপচারকালীন সংগ্রহ করেছিল তার ফরেনসিক রিপোর্ট বিষয়ে শ্রীসরকার বলেছেন—রক্তের নমুনা ছিল মানুষেরই। আমার বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে—ফরেনসিক রিপোর্ট ছিল রক্তের নমুনা পশুর। আমাদের দুজনের পরস্পরবিরোধী কথায় উভয় পত্রিকার পাঠকরা বিভ্রান্ত হয়েছেন। ফরেনসিক রিপোর্ট বিষয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে একজন কেউ নিশ্চয়ই ভুল বা মিথ্যে তথ্য পরিবেশন করেছি।

 জানতাম, আমার উপর মিথ্যা সন্দেহের বোঝা বিচ্ছিন্নভাবে শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়, আমাদের সমিতির সততা বিষয়টিও আসতে বাধ্য, যা যুক্তিবাদী আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, ব্যাহত করবে। এক্ষেত্রে আমার পক্ষে নীরবতা পালন বিভ্রান্তিই বাড়াবে মাত্র। তাই বিজ্ঞান আন্দোলনে স্বার্থে, যুক্তিবাদী আন্দোলনের স্বার্থেই শ্রীসরকারের প্রসঙ্গকে টেনে আনতে বাধ্য হলাম।

 বিভ্রান্ত পাঠক-পাঠিকাদের কাছ থেকে বেশ কিছু চিঠি এই প্রসঙ্গে পেয়েছি। তাঁদের প্রত্যেকেরই মূল বক্তব্য ছিল—আমাদের দুজনের মধ্যে কে সত্য কথা বলছি। আমার বক্তব্য যদি সত্যিই হয়, তবে মুখ খুলছি না কেন? বহু চিঠির ভিতর থেকে এখানে দেবদর্শন চক্রবর্তী, তথাগত চট্টোপাধ্যায় ও আদৃতা